...|...|...

বিশ্ব

৯/১১ হামলার নেপথ্যে মার্কিন সরকার? কতটা সত্য এই দাবি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:০৮
Shares
৯/১১ হামলার নেপথ্যে মার্কিন সরকার? কতটা সত্য এই দাবি

ছবি: সংগৃহীত

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দিনগুলোর একটি। সেদিন চারটি বাণিজ্যিক বিমান ছিনতাই করে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও পেন্টাগেলে হামলা চালানো হয়। প্রাণ হারান প্রায় ৩ হাজার মানুষ। হামলার জন্য আল-কায়েদা ও এর নেতা ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করা হলেও, ঘটনার পর থেকেই এর নেপথ্যে মার্কিন সরকার কিংবা অন্য কোনো শক্তির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়ে। তবে এসব দাবির কতটা সত্য, আর কতটাই বা অনুমান-তা নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে।

বিমানগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ব্যবহার করেছিল ছিনতাইকারীরা। বিমান দুটি হলোঅ্যামেরিকান এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ইলেভেন এবং ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ১৭৫, যা নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত করে।

প্রথম বিমানটি আঘাত করে নর্থ টাওয়ারে, আর দ্বিতীয়টি সাউথ টাওয়ারে। এরপর দুটি টাওয়ারেই ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা পর সাউথ টাওয়ার ধসে পড়ে। আর কিছুক্ষণ পর নর্থ টাওয়ারও ধসে যায়।

তৃতীয় বিমানটি গিয়ে আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। আর চতুর্থ বিমান ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৯৩ পেনসিলভেনিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়।

ধারণা করা হয়, যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ফলে বিমানটি লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।

কিন্তু টুইন টাওয়ার্স ধসে পড়ল কীভাবে? এখানেই শুরু হয় সবচেয়ে বড় বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন ছিল, শুধু আগুনে কি এত বড় স্টিলের ভবন ধসে পড়তে পারে?

স্টিল গলে যাওয়া এবং স্টিল দুর্বল হয়ে যাওয়া-দুটো এক জিনিস নয়। স্টিলকে পুরোপুরি গলাতে অত্যন্ত বেশি তাপমাত্রা প্রয়োজন। কিন্তু ভবন ধসে পড়ার জন্য স্টিলের গলে যাওয়া জরুরি নয়। আগুনে স্টিল অনেকটা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

আর বিমানের আঘাতে ভবনের কিছু কলাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি আগুনের কারণে ভবনের বিভিন্ন অংশের কাঠামোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ওপরের অংশের ওজন নিচের কাঠামোর ওপর ভয়াবহ চাপ তৈরি করে। এতে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ধসে পড়তে থাকে। এটাকে বলা হয় প্রগ্রেসিভ কল্যাপ্স।

চলুন এবার জানা যাক, বিল্ডিং সেভেনের কী হয়েছিল? টুইন টাওয়ার্স ছাড়াও ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমপ্লেক্সের আরেকটি ভবন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ৭, বা ডব্লিউটিসি ৭ ধসে পড়ে।

এখান থেকেই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আরও জনপ্রিয় হয়। ডব্লিউটিসি ৭ কোনো বিমানের সরাসরি আঘাতে ধ্বংস হয়নি। ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রবক্তাদের কেউ কেউ বলেন, ভবনটির ভিতরে আগে থেকেই বিস্ফোরক বসানো হয়েছিল।

অর্থাৎ, এটি ছিল কন্ট্রোল্ড ডেমোলিশন। তাদের যুক্তি, ভবনটি দেখতে অনেকটা ‘ডেমোলিশনের’ মতো করে নিচে নেমে আসে। তবে তদন্ত কী বলেছিল?

যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ কমিশন মূলত হামলার পরিকল্পনা, আল-কায়েদা, গোয়েন্দা ব্যর্থতা এবং হামলা ঠেকাতে কেন যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছিল-এসব বিষয় তদন্ত করে। কমিশন রিপোর্টের মূল সিদ্ধান্ত ছিল, ৯/১১ হামলা আল-কায়েদার পরিকল্পনা ও ১৯ জন ছিনতাইকারীর মাধ্যমে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা।

অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ভবনগুলোর ধসের প্রকৌশলগত কারণ নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (এনআইএসটি)।

সংস্থাটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টুইন টাওয়ার্সের ক্ষেত্রে বিমান আঘাত, ‘স্ট্রাকচারাল ড্যামেজ’ এবং পরবর্তী ভয়াবহ আগুন ভবনের কাঠামোকে দুর্বল করে দেয় এবং ধসের সূচনা করে।

ডব্লিউটিসি ৭-এর ক্ষেত্রে এনআইএসটি বলেছে, দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকা আগুন ভবনের স্ট্রাকচারাল সিস্টেমকে দুর্বল করে। শেষ পর্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ কলামের ফেইলিউর থেকে প্রগ্রেসিভ কল্যাপ্স শুরু হয়।

তাদের দাবি মোটামুটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রথম দাবি, কন্ট্রোল্ড ডেমোলিশন
তারা বলেন, টুইন টাওয়ার্স এবং ডব্লিউটিসি সেভেনের ধস অনেকটা কন্ট্রোল্ড ডেমোলিশনের মতো ছিল।

দ্বিতীয় দাবি-বিমান কি সত্যিই এত ক্ষতি করতে পারে?
তাদের প্রশ্ন, একটি যাত্রীবাহী বিমান কীভাবে বিশাল স্টিলের ভবন ধসিয়ে দিতে পারে?

তৃতীয় দাবি-ডব্লিউটিসি ৭
বিমান আঘাত না করেও ভবনটি ধসে পড়ায় তারা এটিকে সবচেয়ে সন্দেহজনক ঘটনা হিসেবে দেখেন।

চতুর্থ দাবি-পেন্টাগন
কিছু কনস্পিরেসি থিওরিস্ট অনুযায়ী, সেখানে যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটি একটি বোয়িং সেভেন ফিফটি-সেভেনের আঘাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এমনকি কেউ কেউ দাবি করেন, ৯/১১ হামলার পেছনে মার্কিন সরকার বা অন্য কোনো শক্তি জড়িত ছিল।

যদিও, এনআইএসটির তদন্তে কন্ট্রোল্ড ডেমোলিশনের দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ডব্লিউটিসি ৭-এর ক্ষেত্রে এনআইএসটি বলেছে, কল্যাপ্সের ঘটনাটি একটি স্ট্রাকচারাল ফেইলিউর সিকোয়েন্স দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়।

তবে একটা বিষয় গুরুত্বপূর্ণ এর মানে এই নয় যে ৯/১১ নিয়ে কোনো প্রশ্নই করা যাবে না। বরং ৯/১১ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রমাণভিত্তিক প্রশ্নগুলোর অনেকগুলোই ছিল-কেন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হামলার আগাম সতর্কতা পেয়েও তা ঠেকাতে পারেনি?

কেন বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এত দুর্বল ছিল? কেন ছিনতাই হওয়া বিমানগুলোকে সময়মতো আটকানো গেল না?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই নাইন-ইলেভেন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। অর্থাৎ ৯/১১ কীভাবে ঘটল? এই প্রশ্নের সাথে ৯/১১ কেন ঘটতে দেয়া হলো? -এই প্রশ্নটাকে গুলিয়ে ফেললে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।