...|...|...

ঢাকা

৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরানো যায়নি ছেলেকে, লাশের অপেক্ষায় মা

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৮ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:২৪
Shares
৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরানো যায়নি ছেলেকে, লাশের অপেক্ষায় মা

৩১ লাখ টাকা দিয়েও ফেরানো যায়নি ছেলেকে। ছবি: টাইমস টুডে

ইতালিতে পাঠানোর স্বপ্ন দেখিয়ে মাদারীপুরের এক যুবককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে। ছেলেকে জীবিত ফেরাতে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে প্রায় ৩১ লাখ টাকা। কিন্তু টাকা দিয়েও ছেলেকে ফেরানো যায়নি। এখন সন্তানের লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনছেন বৃদ্ধা মা।

অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের মঠেরবার এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সদর উপজেলার চরগোবিন্দপুর এলাকার মৃত করিম সরদারের ছেলে দেলোয়ার সরদার, তার স্ত্রী সোহাগী বেগম এবং দালাল সুমন সরদার ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাসুম আকন (২৫) নামের ওই যুবককে বৈধ স্পন্সর ভিসায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হন মাসুম। পরদিনই দালালরা তার পরিবারকে জানান, মাসুম ইতালিতে পৌঁছে গেছেন। তবে প্রায় ১০ দিন পর ইমো অ্যাপের মাধ্যমে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে মাসুম জানান, তাকে ইতালিতে নেওয়া হয়নি। সৌদি আরব ও মিশর হয়ে তাকে লিবিয়ার একটি বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছে।

এরপর মাসুমকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে উপায়ান্তর না দেখে পরিবার আরও ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা পাঠায়। সব মিলিয়ে দালালদের দেওয়া হয় ৩০ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

তবে এত টাকা দেওয়ার পরও মুক্তি মেলেনি মাসুমের। বরং আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। সেই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে লিবিয়ায় মাসুমের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে দালাল চক্রের নির্দেশে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

মাসুমের পরিবারের আরও অভিযোগ, হত্যার খবর পাওয়ার পর তারা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে টাকা ও ছেলের লাশ ফেরত চান। এ সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

পরে বাধ্য হয়ে মাদারীপুরের বিজ্ঞ মানবপাচার ট্রাইব্যুনাল আদালতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। মামলার আসামিরা হলেন- সুমন সরদার, দেলোয়ার সরদার, সোহাগী বেগম, সিমু আক্তার ও শফিকুল ইসলাম।

মানববন্ধনে নিহত মাসুমের বড় ভাই মামুন আকন বলেন, ধার-দেনা ও সুদে টাকা এনে দালালদের হাতে দিয়েছিলাম ভাইটাকে বাঁচানোর জন্য। তারা টাকাও নিল, আবার আমার ভাইটাকেও মেরে ফেলল। আমরা অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। একই সাথে আমার ভাইয়ের লাশ যেন দ্রুত দেশের মাটিতে এনে দাফন করতে পারি, সে বিষয়ে সরকারের জোর সহযোগিতা চাই।

মানববন্ধনে নিহতের বৃদ্ধা মা কুট্টি বিবি, বড় ভাই মামুন আকন, আজিজুল আকনসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে খোয়াজপুর ইউনিয়নের শত শত সাধারণ মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

পরিবারের দাবি, একদিকে প্রায় ৩১ লাখ টাকা হারিয়েছে পরিবার, অন্যদিকে হারিয়েছে তাদের একমাত্র অবলম্বন। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা- অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং লিবিয়ায় নিহত মাসুমের লাশ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মায়ের হাতে তুলে দেওয়া।