...|...|...

সারাদেশ

২৬ বালুমহালে অবৈধ কারবার, কোটি টাকার ভাগ যায় কার পকেটে

রাজন হোসেন তৌফিক, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২২
Shares
২৬ বালুমহালে অবৈধ কারবার, কোটি টাকার ভাগ যায় কার পকেটে

ছবি: টাইমস টুডে

শ্রীমঙ্গলে বালু এখন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, হয়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ অর্থনীতির উৎস। সরকার পাচ্ছে সামান্য রাজস্ব, আর বালু লুটের কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে একটি চক্রের পকেটে। প্রশাসনের অভিযান চললেও বন্ধ হচ্ছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন।

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে ২৮টি বালুর কোয়ারি ও মহালের মধ্যে মাত্র দুটি সাধারণ বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৬টি সিলিকা বালুর কোয়ারি ইজারার বাইরে। অর্থাৎ, বৈধভাবে বালু উত্তোলনের সুযোগ রয়েছে মাত্র দুটি স্থানে। অন্যদিকে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে ২৬টি স্থান থেকে।

চলতি বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১৬টি অভিযানে সরকার জরিমানা হিসেবে পেয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকা। আর জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করে রাজস্ব এসেছে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

অথচ সর্বশেষ দুটি অভিযানেই জব্দ হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ঘনফুট বালু। গত ৩১ অক্টোবর রায়পরান পশ্চিমপাড়া থেকে ১৬ হাজার ঘনফুট এবং ২ নভেম্বর মুড়াছড়া ও বৌলাছড়া থেকে ১০ হাজার ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়।

প্রতিদিন যদি এ পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়, তাহলে বছরে লুটের পরিমাণ কত? আর এর বাজারমূল্যই বা কত কোটি টাকা? এসব হিসাব কেউ দিতে পারছে না।

বালু লুটের লাভ যাচ্ছে একটি সিন্ডিকেটের কাছে। আর ক্ষতি হচ্ছে তিনভাবে।

সরকারের ক্ষতি: ইজারা ছাড়া বালু উত্তোলন করায় সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

কৃষকের ক্ষতি: ছড়া ও কৃষিজমি কেটে বালু উত্তোলনের ফলে নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি। তীরভাঙনে ভিটেমাটি হারাচ্ছেন মানুষ।

জনগণের ক্ষতি: বালুবাহী ভারী যানবাহনের চাপে ভেঙে যাচ্ছে গ্রামীণ সড়ক ও সেতু। এসব সড়ক-সেতু মেরামতে আবার খরচ হচ্ছে জনগণের করের টাকা।

সম্প্রতি বালুবাহী গাড়ির চাপায় অটোরিকশা ও টমটমের চালকসহ ছয়জন আহত হন। পরে উত্তেজিত জনতা গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। কিন্তু কেউ কেউ জামিনে বেরিয়ে এসে আবার একই কাজে জড়াচ্ছে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, যতদিন এই অবৈধ অর্থনীতির শিকড় না কাটা হবে, ততদিন অভিযান দিয়ে লুট থামবে না। ইজারা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা, জব্দ বালুর সঠিক হিসাব দেওয়া এবং সিন্ডিকেটের অর্থের উৎস বন্ধ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শ্রীমঙ্গলের বালু বাঁচাতে হলে এখন দরকার শুধু অভিযান নয়, দরকার অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা।