...|...|...

রাজনীতি

১১ দলীয় জোটে দূরত্বের গুঞ্জন, যা বললেন পাটওয়ারী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:৩৯
Shares
১১ দলীয় জোটে দূরত্বের গুঞ্জন, যা বললেন পাটওয়ারী

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

১১ দলীয় জোটে দূরত্ব তৈরির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, জোটের মধ্যে দূরত্ব তৈরির বিষয়ে অনেকে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তবে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি নেই। জোটের কর্মসূচিতে সব নেতার উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান’ প্রতিপাদ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ৩১ অক্টোবরের লং মার্চে দলের প্রধান অংশ না নেওয়ায় জোটের মধ্যে দূরত্বের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর আগেও জোটের অন্য নেতারা বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেননি। কেউ অসুস্থ থাকতে পারেন, কারও অন্য কাজ থাকতে পারে। প্রত্যেকটি কর্মসূচিতে সবার অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক, এমন কোনো নিয়ম নেই।

জোটের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আমরা জোটে থাকবো। সরকারের কোনো সমস্যা হলে জবাবদিহি চাইবো। বিরোধী দলের কেউ কোনো সমস্যা তৈরি করলেও তার জবাবদিহি চাইবো।

সম্মেলনে বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি গোখরা সাপ। প্রধানমন্ত্রী, আপনি তাদের থেকে সতর্ক থাকুন। কারণ আপনার মন্ত্রণালয়ের অনেকেই পতিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন। আপনার গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যও আরেকবার যাচাই করুন। আপনি বাতির নিচের অন্ধকার দেখতে পান না। সমস্যা সৃষ্টিকারীরা আপনার আশপাশেই রয়েছে।

সরকারের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে কিনা, তরুণদের কর্মসংস্থান হয়েছে কিনা, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে কিনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কিনা, জ্বালানি সংকট থেকে আমরা মুক্তি পেয়েছি কিনা-এসব প্রশ্নের উত্তর তারেক রহমানকে দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে থাকতে হলে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আর না হলে ক্ষমতা ছেড়ে দেন। আমাদের অভিজ্ঞতা আছে, আমরা বাংলাদেশ চালাতে পারবো। জাতীয় নাগরিক পার্টি প্রস্তুত থাকবে। রাজপথে লড়াই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তান হিসেবে আপনাকে আমরা শ্রদ্ধা করি। কিন্তু রাষ্ট্রকে যদি পারিবারিক ব্যবসা ভাবেন, বাবা চালিয়েছেন, মা চালিয়েছেন, এখন আমি চালাবো-তাহলে সেখানে আমরা জবাবদিহির প্রশ্ন তুলবো।

নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, আমাদের নিজস্ব রাজনীতি আছে, নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। জোটে গিয়ে শুধু মঞ্চে বক্তব্য দেওয়াই আমাদের রাজনীতি নয়। বাংলাদেশে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যেখানে কেউ কোনও জোটে গেলে অন্য নেতাকে ‘জি হুজুর’ বলতে হয়। আমরা এই সংস্কৃতি বাংলাদেশে চর্চা করবো না।

এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, বিদেশে বাংলাদেশিরা আক্রান্ত হলেও সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার একজন তরুণের ক্ষেত্রে ক্ষমা পাওয়ার উদাহরণ থাকলেও বাংলাদেশিদের জন্য সরকার কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পাঁচ লাখ টাকার আকামার জন্য ২০ লাখ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যেতে গিয়েও তরুণদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। সরকারকে এসব সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

এনসিপি ক্ষমতায় গেলে তরুণদের অংশগ্রহণে তারুণ্যনির্ভর সরকার গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে তরুণদের দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশকে বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।