...|...|...

বরিশাল

স্বাধীনতার পাঁচ দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি গেন্ডামারা গ্রামে

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২৬, রাত ১:০৩ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:৪৪
Shares
স্বাধীনতার পাঁচ দশকেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি গেন্ডামারা গ্রামে

স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও গেন্ডামারা গ্রামে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। ছবি: টাইমস টুডে

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গেন্ডামারা গ্রাম যেন আজও উন্নয়নের মানচিত্রের বাইরে। প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস হলেও গ্রামটিতে নেই একটি পাকা সড়ক কিংবা খাল পারাপারের স্থায়ী সেতু। চারদিক খালবেষ্টিত এই গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পার হলেও গেন্ডামারা গ্রামে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি। নানা সময় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে গ্রামের ভেতরে একটি পাকা সড়কও নির্মিত হয়নি। নির্বাচনের সময় নানা আশ্বাস মিললেও পরে আর সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখা যায় না। 

গ্রামে প্রবেশের প্রধান দুটি সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটারের অধিকাংশ সড়কই কাঁচা হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে হাঁটাচলাই দুরূহ হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করতে পারে না।

গ্রামে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মহিলা দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। তবে বেহাল যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শিক্ষাজীবন ঝরে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের দাবি, কাঁচা রাস্তার কারণে অনেক সময় রোগীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে।

গ্রামের ৩টি ব্রিজ ও কালভার্ট দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না। পরিবহন সংকটের কারণে অনেক সময় ক্ষেতেই ফসল নষ্ট হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। গেন্ডামারা গ্রামের বাসিন্দারা দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ, প্রধান সড়কগুলো পাকা করা, ভেঙে পড়া ব্রিজ ও কালভার্ট পুনর্নির্মাণ এবং শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের উপযোগী আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছেন।

তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।