চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সৌদি আরবে অন্তত ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৯ জনই বিদেশি নাগরিক। এই তালিকায় বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। ইউরোপীয় সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটসের (ইএসওএইচআর) পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এসব তথ্য।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯ জন সৌদি নাগরিক। বিদেশিদের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন।
সম্প্রতি মক্কার একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তবে তারা প্রথম ছয় মাসে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ১০৮ জনের তালিকায় নেই।
ইএসওএইচআরের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রধান কারণ ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে ছয় মাসে ৭১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, যা মোট সংখ্যার প্রায় ৬৬ শতাংশ। হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে ২৫ জনের। এ ছাড়া রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট মামলায় ৯ জন এবং অন্যান্য অপরাধে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৯ জনই বিদেশি নাগরিক। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি বছরেও দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উচ্চ হার অব্যাহত রয়েছে।
ইএসওএইচআরের দাবি, সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে চলতি বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত মোট মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা দুই হাজারে পৌঁছেছে। সংস্থাটির মতে, সৌদি আরবের আগের শাসনামলগুলোর তুলনায় এ সংখ্যা সর্বোচ্চ।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তথ্য প্রকাশের ঘাটতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের হিসাবে, ১০৮টি ঘটনার মধ্যে ৯১টির বিষয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তারা বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সংস্থা তথ্য জানতে পারেনি। অর্থাৎ, মোট ঘটনার ৮৪ দশমিক ২ শতাংশের ক্ষেত্রেই আগাম তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। এতে সৌদ আল-ফারাজের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা উল্লেখ করা হয়। তার আটকাদেশকে জাতিসংঘের একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ আগে বেআইনি ও অযৌক্তিক বলে বিবেচনা করেছিল।
এ ছাড়া মাত্র ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে দণ্ডিত আলী আল-সুবাইতির মৃত্যুদণ্ড গত ৯ এপ্রিল কার্যকর করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইএসওএইচআর।
সংস্থাটির দাবি, শৈশবে সংঘটিত কথিত অপরাধের দায়ে অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশের অভিযোগে দণ্ডিত আরও ৪৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা রয়েছে। তাদের মধ্যে শেখ সালমান আল-আওদা ও শেখ হাসান আল-মালিকিও রয়েছেন।
ইএসওএইচআর আরও জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় থাকা অনেক বন্দী পর্যাপ্ত আইনি সহায়তা, পেশাদার দোভাষী এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের কার্যকর সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কয়েকজন বন্দীর ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং বাইরের বিশ্বের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংস্থাটির মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রবণতা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৌদি আরবের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


