যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও হোয়াইট হাউসের সাবেক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের তিন প্রভাবশালী শীর্ষ নেতার এক বিশাল গোপন আর্থিক লেনদেনের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যকার এই গোপন আর্থিক যোগাযোগ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন ম্যাগাজিন ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এ প্রকাশিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক ম্যাথু কোলের নতুন বই ‘প্রিন্সেস অ্যান্ড থিভস’-এর কিছু অংশ থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। জানা গেছে, ২০১৭ সালে নেদারল্যান্ডসের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এক রুশ হ্যাকারের সহায়তায় জ্যারেড কুশনারের আইফোনের স্ক্রিনে নজরদারি চালানোর সুযোগ পায়। সেখান থেকেই গোয়েন্দারা কুশনারের গোপন ব্যাংকিং কার্যক্রম ও বিভিন্ন নথিপত্র হাতে পান।
ফাঁস হওয়া নথিপথ অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংকে ‘আলফা’ নামে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের বৈদেশিক নীতিকে নিজেদের পক্ষে প্রভাবিত করতে এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৭৫ কোটি ডলার লেনদেন করা হয়েছিল। আজারবাইজানের একটি ব্যাংকের গোপন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে এই অ্যাকাউন্টে পাঠানো হতো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি সামরিক সহায়তাকারী দাতব্য সংস্থার আড়ালে পরিচালিত ওই তহবিলের অন্যতম গোপন স্বাক্ষরকারী ছিলেন স্বয়ং কুশনার।
পরবর্তীতে ইউএই ও সৌদি নেতৃত্ব ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং কুশনারের মধ্যস্থতায় মধ্যপ্রাচ্যের নতুন রূপরেখা তৈরি করতে অন্তত ২০০ কোটি ডলারের একটি যৌথ তহবিল গঠন করে। এর অংশ হিসেবে আজারবাইজান হয়ে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ‘বেটা’ নামের আরেকটি গোপন অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০০ কোটি ডলার পাঠানো হয়। তৎকালীন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরাসরি নজরদারিতে অ্যাকাউন্টটি পরিচালিত হতো এবং পরবর্তীতে এই অর্থ সাইপ্রাসের বিভিন্ন ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন, সৌদি যুবরাজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করাই ছিল এই লেনদেনের মূল উদ্দেশ্য।
মার্কিন আইন ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সেবার নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কুশনারের কোনো বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার থাকলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা বাধ্যতামূলক ছিল। মার্কিন বিশেষজ্ঞদের মতে, হোয়াইট হাউসে কর্মরত অবস্থায় অননুমোদিত বিদেশি ফান্ডের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কুশনারের ভূমিকা ফেডারেল ঘুষ এবং বৈদেশিক প্রতিনিধি আইনের মারাত্মক লঙ্ঘন হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জ্যারেড কুশনার। তার আইনজীবী দাবি করেছেন, বাস্তবে এ ধরনের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্টের অস্তিত্বই ছিল না এবং কুশনার তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ মেনেই নিজের সমস্ত কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছিলেন।


