সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩ নম্বর টার্মিনালে হুতি বিদ্রোহীদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আহত ২৪ জন বাংলাদেশি সেখানকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তাদের মধ্যে নওগাঁর সাফফাত রহমান নামের এক ওমরাহ যাত্রী সংকটাপন্ন অবস্থায় রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালের আইসিইউতে অচেতন রয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস সোমবার (১২ অক্টোবর) চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
শনিবারের (১০ অক্টোবর) ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মোট ১৩ জন নিহত হন, যার মধ্যে দুই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন— কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি এবং বগুড়ার শাহজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ।
নিহতদের মধ্যে নাসরুল্লাহ বদরপুরী ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন এবং শাহেদ আহম্মেদ সৌদি আরবে প্লাম্বার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হামলাটি যখন ঘটে, তখন তারা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে জেদ্দাগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ওঠার জন্য বোর্ডিং ব্রিজে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসাধীন আছেন, যার মধ্যে সাফফাত রহমান আইসিইউতে রয়েছেন এবং অপর আহত কুমিল্লার মো. দাউদুল ইসলামের চিকিৎসা চলছে। এ ছাড়া কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন ওমরাহ যাত্রী হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ এবং প্রবাসী কর্মী মো. ওমর ফারুক। তবে তাদের অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
অন্যদিকে রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে ঢাকার লালবাগের মো. সাইদুল ইসলাম সৌরভ ও মিরপুরের আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন এবং প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে ডেমরার ওমরাহ যাত্রী মো. আবদুল্লাহ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সুলাইমান আল-হাবিব হাসপাতালের তাখাসসুচি শাখায় প্রবাসী কর্মী ফয়সাল আহমদ, মোহাম্মদ এবং ওমরাহ যাত্রী আরমান হোসেনের চিকিৎসা চলছে।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে পাঁচ প্রবাসী কর্মী—সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ ও সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার ভর্তি আছেন। পাশাপাশি কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া, কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটিতে তিনজন, এস্টার সনদ হাসপাতালে দুইজন, সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে একজন এবং সুলাইমান আল-হাবিবের আলসাহাফা শাখায় আরও দুইজন বাংলাদেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় রিয়াদে আটকে পড়া প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রীকে সার্বিক সহায়তা দিচ্ছে বাংলাদেশ দূতাবাস। অন্তত ১০০ জন যাত্রীকে রিয়াদের মেরিয়ট হোটেল, রেডিসন হোটেল ও প্রিন্সেস নূরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে রাখা হয়েছে। ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে আসা ৬৭ জনকে বিশেষ বাসে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে ঢাকাগামী বাতিল হওয়া ফ্লাইটের ৪০০ যাত্রীকে বিকল্প হিসেবে দাম্মাম কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও সার্বিক খোঁজখবর রাখতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে রিয়াদের বাংলাদেশ মিশন।

