পবিত্র কোরআনের ৯৫তম সুরা ‘আত-তীন’। মাত্র ৮টি আয়াতের ছোট এই সুরাটিতে মহান আল্লাহ তীন (ডুমুর), যাইতুন (জলপাই), ঐতিহাসিক তূর পর্বত এবং নিরাপদ শহর মক্কার কসম খেয়ে মানুষের সৃষ্টিগত মর্যাদা, নৈতিক পতন এবং পরকালীন মুক্তির এক বিস্ময়কর রূপরেখা উন্মোচন করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে ছোট হলেও মানুষের চরিত্র গঠন ও জীবন পরিচালনায় এই সুরার গুরুত্ব অপরিসীম।
১. মানব সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্ব ও নৈতিক দায়বদ্ধতা
সুরা আত-তীনের ৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-মানুষকে তিনি সবচেয়ে সুন্দর ও সর্বোত্তম আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।
এখানে ‘সর্বোত্তম আকৃতি’ বলতে কেবল বাহ্যিক গঠন বা অবয়বের সৌন্দর্যকে বোঝানো হয়নি; বরং আল্লাহ মানুষকে বিবেক, চিন্তাশক্তি, ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা এবং সত্যকে গ্রহণের অনন্য সামর্থ্য দান করেছেন। মানুষের মূল মর্যাদা তার প্রজ্ঞা ও সততার মধ্যে নিহিত। তাই নিজের সৃষ্টির এই উচ্চ মর্যাদা রক্ষা করতে হলে মানুষকে অহংকার ও অন্যায়ের পথ ত্যাগ করে বিনয় ও ন্যায়বিচারের নীতি আঁকড়ে ধরতে হবে।
২. পতনের আশঙ্কা ও মুক্তির একমাত্র উপায়
সুরার ৫ ও ৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মানুষকে একপর্যায়ে নিম্নতম বা নিকৃষ্টতম অবস্থায় নামিয়ে দেওয়া হয়; কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে। তাদের জন্য রয়েছে অশেষ ও নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।
আল্লাহর দেওয়া বিবেক ও সুবুদ্ধিকে সঠিকভাবে কাজে না লাগালে মানুষ পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। শুধু বংশমর্যাদা, অর্থবিত্ত বা বাহ্যিক পরিচিতি মানুষকে সম্মানিত রাখতে পারে না। বিশ্বাসের সাথে সৎকর্মের সমন্বয়ই মানুষের পতন রোধ করে। সমাজে আমানত রক্ষা করা, সততা বজায় রাখা, মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন না করা এবং দুস্থদের পাশে দাঁড়ানোই হলো ঈমানের বাস্তব প্রকাশ।
৩. চূড়ান্ত জবাবদিহিতা ও পরম বিচারকের ভয়
সুরার শেষ আয়াতে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে-‘আল্লাহ কি বিচারকদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বিচারক নন?’
এই আয়াতটি মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের জবাবদিহিতার কথা মনে করিয়ে দেয়। ইহকালে অন্যায় বা অপকর্ম করে পার পেয়ে গেলেও মহা বিচারক আল্লাহর দরবার থেকে কারও রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। পরকালের এই সুবিচারের প্রতি গভীর বিশ্বাসই একজন মানুষকে পাপের পথ থেকে বিরত রাখে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে ধাবিত করে।


