...|...|...

রাজশাহী

সিজারের দেড় মাস পর পেট থেকে বের হলো সুতা, ডাক্তার বললেন ঠিক আছে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
আপডেট: ২ দিন আগে
সিজারের দেড় মাস পর পেট থেকে বের হলো সুতা, ডাক্তার বললেন ঠিক আছে

ভুক্তভোগী নারী সাথী খাতুন। ছবি: টাইমস টুডে

‘মা আমি সুমাইয়াকে কোলে নিতে পারব কবে, মা আমার কাছে এসে সবাই বসতে পারবে কবে, মা আমি কি আবার আগের মতো চলতে পারব, মা আমি কি আর ভালো হবো না।’- কথাগুলো বলছিলেন গত তিন মাস আগে সিজার করা সাথী খাতুন।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের হরি নারায়নপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে সাথী খাতুনের সাথে কথা হয়। এসময় তিনি জানান, ‘আমাকে আলেয়া হাসপাতালের রুহুল ডাক্তার সিজার করে পঙ্গু করে ফেলেছে। সিজারের দেড় মাস পর আমার জরায়ু দিয়ে মাংসের টুকরোর সাথে দুই ফুট সুতা বের হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ আমি আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।’ 

সাথী খাতুনের মা ফুলমালা জানান, আলেয়া হাসপাতালে সিজার করে ৪০ হাজার টাকা টাকা দিয়েছি। সিজারের পর থেকেই সাথীর জরায়ু দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে, গন্ধে কাছে যাওয়া যায় না।  

সাথী খাতুনের স্বামী আমজাদ মুঠোফোনে জানান, কয়েকবার আলেয়া হাসপাতালে নেওয়ার পর ভালো না হওয়ায় জিয়া মেডিকেলে ভর্তি করি। দেড় মাস ভর্তি থাকি, ‘বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে, এখন আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সংসারের খরচ চালাতে কোনো উপায় না পেয়ে ঢাকায় রিস্কা চালাচ্ছি। আমার তিনটা শিশু সন্তান এখন ইতিম হওয়ার পথে। আমি এই ডাক্তারের বিচার চাই।’

সিজারে সাথে যাওয়া প্রতিবেশী হোসেন সেখ জানান, ‘২ এপ্রিল আলেয়া হাসপাতালের দালাল রিপনের পরামর্শে আমরা এখানে যাই। অপারেশনের  করতে ডাক্তার সময় নেয় প্রায় দুই ঘণ্টা। কেন এতো সময় নেয় প্রশ্ন করলে, হাসপাতালের লোকজন হুমকি ধামকি দেয়। সিজারের রাতেই সাথীর পেট ফুলে যায়, ঐ অবস্থায় ছেড়ে দেয়। বাড়িতে এসে জরায়ু দিয়ে দুগ্ধ যুক্ত পুঁজ আসতে থাকে, রোগী চিৎকার করতে থাকে। এরপর আবার ৯ এপ্রিল আলেয়া হাসপাতালে নেওয়া হলে, নাকের মধ্যে পাইপ দিয়ে পেটের ফোলা কমায়, এরপর ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেয়। বাড়িতে এসে রোগী কাররাতে থাকে, রোগটির অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত নেওয়া হয় জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।’

জরায়ু দিয়ে মাংসের টুকরোর সাথে দুই ফুট সুতা বের হয়েছে, এবিষয়ে অভিযুক্ত আলেয়া হাসপাতালের ডাক্তার রুহুলের বক্তব্য নিতে গেলে, তিনি জানান, জরায়ু দিয়ে মাংসের টুকরোর সাথে দুই ফুট সুতা বের হয়েছে ভালো হয়েছে, সুতা বের হতেই পারে।’

এক পর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন। এসময় তিনি জানান, ‘রোগী কিন্তু সিরাজগঞ্জ শহরে থাকে না, সে কিন্তু বাহিরের মানুষ। তারা আর এখানে নাও আসতে পারে। রাস্তায় বের হলে, আপনাদের সাথে আমার সবসময় দেখা হবে। আপনাকে কিন্তু সিরাজগঞ্জ শহরে থাকতে হবে, বিষয়টি মাথায় রাইখেন।’

জরায়ু দিয়ে মাংসের টুকরোর সাথে দুই ফুট সুতা বের বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলাম জানান, ‘কোনোভাবেই এমন হওয়ার কথা না। যদি হয়ে থাকে তাহলে আমাদের কাছে অভিযোগ আসলে আমরা বিষয়টা তদন্ত করে দেখবো। এর আগেও এই প্রতিষ্ঠানকে তিন বার করে জরিমানা করা হয়েছে। তবে শক্তিশালী কোনো অভিযোগকারী না থাকায়, এদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া যায় না।’