...|...|...

স্বাস্থ্য

সাধারণ মানুষের চেয়ে কত বছর কম বাঁচেন স্বর্ণের কারিগররা?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৩৬
Shares
সাধারণ মানুষের চেয়ে কত বছর কম বাঁচেন স্বর্ণের কারিগররা?

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্বর্ণালংকার তৈরির এলাকা তাঁতীবাজারের স্বর্ণকারদের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১২ বছর ৩ মাস কম। বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, তাঁতীবাজারের প্রতি চারজন স্বর্ণকারের মধ্যে প্রায় তিনজনই কোনো না কোনো অসংক্রামক রোগে ভুগছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণালংকার তৈরির কাজে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকাকে এসব স্বাস্থ্যঝুঁকির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকেরা।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, তাঁতীবাজারের ৬৫ শতাংশ স্বর্ণকার উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। ৫০ শতাংশের রয়েছে ডায়াবেটিস। এছাড়া ৩৫ শতাংশ হৃদ্‌রোগে এবং ২০ শতাংশ কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছেন।

গবেষকদের হিসাবে, এসব স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে স্বর্ণকারদের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ১২ বছর ৩ মাস কম।

স্বর্ণালংকার তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবহৃত রাসায়নিক পদার্থ স্বর্ণকারদের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে কাজের সময় দীর্ঘক্ষণ সালফিউরিক অ্যাসিডের ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকতে হয় তাঁদের।

কর্মক্ষেত্রে এসব ক্ষতিকর পদার্থ থেকে নিজেদের সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও অনেক ক্ষেত্রে নেই। ফলে বছরের পর বছর রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন কারিগরেরা।

গবেষকেরা জানান, তাঁতীবাজারের কর্মপরিবেশে বায়ু চলাচলও অনেক সময় পর্যাপ্ত থাকে না। স্বর্ণালংকার তৈরির সূক্ষ্ম কাজের সময় অসুবিধা হওয়ার আশঙ্কায় অনেক ক্ষেত্রে ফ্যান চালানো সম্ভব হয় না। ফলে গরম পরিবেশেই দীর্ঘসময় কাজ করতে হয় কারিগরদের।

এ কারণে নিয়মিত ঠান্ডাজনিত সমস্যা ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন অনেক স্বর্ণকার।

কর্মস্থলের ধুলাবালিও স্বর্ণকারদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে রাসায়নিক পদার্থ, ধুলাবালি ও প্রতিকূল কর্মপরিবেশে কাজ করার ফলে একদিকে যেমন বিভিন্ন অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা, অন্যদিকে কমছে কর্মক্ষমতাও।

গবেষণায় উঠে আসা এসব তথ্য স্বর্ণকারদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

স্বর্ণকারদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য বাধ্যতামূলক নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে শুধু চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই যথেষ্ট নয়; বরং স্বর্ণালংকার তৈরির পুরো কর্মপরিবেশকে নিরাপদ করা জরুরি।