সাজেকে একের পর এক সশস্ত্র সহিংসতা, গোলাগুলি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পার্বত্য অঞ্চলে। এসব ঘটনার প্রতিবাদ ও এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ১২ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটি। এতে দীঘিনালা থেকে সাজেকগামী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের সুবিধার্থে একই সময়ে অবরোধ শিথিল রাখার ঘোষণা দেয় ইউপিডিএফ সমর্থিত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
সকাল থেকেই দীঘিনালা, বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা ও কাঁঠালতলীসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কে অবস্থান নেন অবরোধকারীরা। কোথাও গাছের গুঁড়ি, কোথাও বাঁশ ও ইট ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে বাঘাইছড়ি, লংগদু ও সাজেকের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সাজেকে সহিংস সশস্ত্র তৎপরতা, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে হামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় বলে সংগঠনটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস ও সংবাদকর্মীদের যানবাহন অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়।
এদিকে, শনিবার দুপুরে সাজেকের কলাবুনিয়া এলাকায় সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) ও প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, সাজেক থেকে পিসিজেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র তৎপরতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি।
দীর্ঘদিনের অবরোধে সাজেকে খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। ব্যাহত হচ্ছে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও। নিরাপত্তাজনিত কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এতে পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।


