কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনেবাড়ি থেকে ফেরার পথে অটোরিকশাচালকদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কনের পরিবারের সদস্যদের মারধর, টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (১ নভেম্বর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার।
আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. কাউসার মিয়া। আহত অন্যদের মধ্যে কনের পরিবারের ১৪ জন রয়েছেন। তবে প্রাথমিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয়।
শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনরা বাড়ি ফিরছিলেন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের বহনকারী গাড়ি কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সাথে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দয়াল মিয়া ও তার সাথে থাকা কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন আহত হন।
খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালালে কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া মূলত গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। এ কারণে এলাকায় প্রভাব খাটান তিনি। তার নেতৃত্বেই তাদের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ, হামলার সময় স্বজনদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কারও লুট করে নেয়া হয়েছে। আহত ১৪ স্বজনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। দয়াল মিয়ার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। এ সময় রূপ নাহার বলেন, মাইজচরের লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেয়ার জন্য তার স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। বর্তমানে তার স্বামীও হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার মুঠোফোনে বলেন, দুপক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা করেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

