সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও বাক্স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে এবং সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করবে না বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বাধীনভাবে কাজ করতে হবে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বার) সকালে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা পাবলিক হলে ‘রফিক হিলালী ইংলিশ এক্সিলেন্স প্রোগ্রাম-২০২৬’-এর ওরিয়েন্টেশন ক্লাস ও এসএসসি-দাখিল পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘সাংবাদিকতার যে স্বাধীনতা আছে, বাক্স্বাধীনতা আছে, সেটা অব্যাহত থাকবে। এখন গণমাধ্যম সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করছে এবং এই স্বাধীনতা অব্যাহত থাকবে।
সাংবাদিকতার মান উন্নয়ন ও অপসাংবাদিকতা রোধে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকতা যেন তার নিজস্ব জায়গা ধরে রাখতে পারে এবং এর মাধ্যমে অপসাংবাদিকতা না হয়, সে জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। একই সাথে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে গণমাধ্যমের মান ও সাংবাদিকতার মানদণ্ড বজায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনগণ যাতে সঠিক সংবাদ পায় এবং অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা কমে আসে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিডিয়া কন্ট্রোল করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কীভাবে আরও বাড়ানো যায়, সে বিষয়ে কাজ করার নির্দেশনাও তিনি দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘কাজ করতে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এটি একটি মানবিক সরকার। সাংবাদিকেরা নির্ভয়ে কাজ করবেন। ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে আপনারা কাজ করবেন। আমরা মিডিয়া কন্ট্রোল করছি না, করবও না।
তবে বাক্স্বাধীনতার নামে কাউকে হেয় করা বা কারও জীবনের জন্য হুমকি তৈরি হয়—এমন লেখা বা বক্তব্য দেওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন। আমরা বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। অতীতে ফ্যাসিবাদের আমলে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছিল। আমরা বিচার বিভাগকে স্বাধীন রাখতে চাই। কোনো নির্দেশ বা বিচার বিভাগকে কন্ট্রোল করতে চাই না। বিচার বিভাগ বিচার বিভাগের মতো চলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী।
অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


