...|...|...

চট্টগ্রাম

সন্দ্বীপে সমুদ্রপথে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে, পরিত্যক্ত দুই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

মুহাম্মদ দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:০৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৪৩
Shares
সন্দ্বীপে সমুদ্রপথে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে, পরিত্যক্ত দুই নৌ-অ্যাম্বুলেন্স

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের প্রায় ৪ লাখ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থায়ী চালক ও জ্বালানি বরাদ্দের সংকটের পাশাপাশি সমুদ্রযাত্রার অনুপযোগী জলযান থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত মূল ভূখণ্ডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

২০০৮ ও ২০১৫ সালে সরকারিভাবে সন্দ্বীপের জন্য দুটি নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতায় সেগুলো একদিনের জন্যও কার্যকরভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে একটি সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে এবং অন্যটি গুপ্তছড়া ঘাটে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে ধ্বংস হচ্ছে।

সম্প্রতি উত্তাল সাগরে অক্সিজেনের নল মুখে দিয়ে পলিথিনে ঢেকে এক বৃদ্ধাকে স্পিডবোটে করে চট্টগ্রামে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সন্দ্বীপের জরুরি স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পাশাপাশি সত্তরোর্ধ্ব ওসমাণ গণিসহ একাধিক মুমূর্ষু রোগীর ঘাটে মৃত্যুর ঘটনাও দ্বীপবাসীর উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

বিশেষ করে বৈরী আবহাওয়া কিংবা রাতে সাধারণ নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ সংকটাপন্ন রোগীদের চট্টগ্রামে নেওয়ার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা থাকে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত চিকিৎসার অভাবে ঘাটে কিংবা মূল ভূখণ্ডে নেওয়ার পথেই অনেক রোগীর মৃত্যু ঘটছে।

সন্দ্বীপের সরকারি-বেসরকারি তিনটি হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, প্রতি সপ্তাহে ২০ থেকে ২৫ জন রোগীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সন্দ্বীপ চ্যানেল পার করতে হয়। কিন্তু সাগরপথে রোগী পরিবহনের সুব্যবস্থা না থাকায় রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে উল্লেখ করে গাছুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এম আশরাফ সিদ্দিকী বলেন, সুযোগ ও সাধ্য অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার পরও কিছু রোগীকে জেলা শহরে স্থানান্তর অনিবার্য হয়ে পড়ে। তখন কালক্ষেপণের সুযোগ থাকে না।

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সমুদ্রপথে নিরাপদ ও দ্রুত রোগী পরিবহনের জন্য সমুদ্র উপযোগী বিশেষ সি-অ্যাম্বুলেন্স চেয়ে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো স্থায়ী কোনো প্রশাসনিক সমাধান হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস বলেন, আগের দুটি সি-অ্যাম্বুলেন্স এই উত্তাল সাগরে চলাচলের উপযোগী ছিল না। এই সাগরে চলাচলের উপযোগী অ্যাম্বুলেন্সের জন্য জরুরি ভিত্তিতে চিঠি দিয়েছি।

সন্দ্বীপের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম বলেন, নৌ-অ্যাম্বুলেন্সটি সাগরে চলাচলের উপযোগী নয়। এটি মূলত হাওর অঞ্চলের জলপথ এবং বন্যার সময় দেশের অভ্যন্তরীণ জলমগ্ন এলাকায় উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য উপযোগী। বর্ষায় সন্দ্বীপ চ্যানেলে বড় ঢেউ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে এই নৌযান চালানো ঝুঁকিপূর্ণ।

দ্বীপবাসীর দাবি, পরিত্যক্ত নৌ-অ্যাম্বুলেন্স দুটির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক ও সমুদ্র উপযোগী সি-অ্যাম্বুলেন্স, স্থায়ী চালক এবং নিয়মিত জ্বালানি বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবার এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।