...|...|...

সারাদেশ

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪১ পদের ২৫টিই শূন্য

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪২
Shares
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪১ পদের ২৫টিই শূন্য

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ৪১টি পদের মধ্যে ২৫টিই শূন্য। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রসূতি ও অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ নেই। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। একজন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দিয়ে চলছে পুরো প্যাথলজি বিভাগ।

এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অন্যান্য সহায়ক জনবলেরও সংকট রয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আগে ছিল ৩১ শয্যার। ২০১২ সাল থেকে ৫০ শয্যার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও ৫০ শয্যার উপযোগী জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২২০টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫৩ জন। শূন্য পদ রয়েছে ৬৭টি। এর মধ্যে চিকিৎসকের ৪১টি পদের মধ্যে ২৫টি শূন্য। ১২ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টের বিপরীতে কর্মরত আছেন চারজন। মেডিক্যাল অফিসার ও সহকারী সার্জনের ২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তার ১২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন সাতজন। নার্সের ৩৩টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ২৮ জন।

চিকিৎসা কর্মকর্তা, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (প্রসূতি), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট (ফিজিক্যাল মেডিসিন) পদে বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া পাঁচটি জুনিয়র কনসালট্যান্ট ও পাঁচটি সহকারী সার্জনের পদও শূন্য রয়েছে। রেডিওগ্রাফার, ফিজিওথেরাপিস্ট ও কার্ডিওগ্রাফারের পদও খালি।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ জন এবং জরুরি বিভাগে ১২০ থেকে ১৪০ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকেন ৫৫ থেকে ৬৫ জন।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে হাসপাতালে ৬০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যা না পেয়ে কয়েকজন রোগী বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালে আসেন পরেশ কাহার। তিনি বলেন, গাইনি ডাক্তার দেখানোর জন্য স্ত্রীকে হাসপাতালে এনেছিলাম। এখানে গাইনি ডাক্তার নেই। আমরা গরিব মানুষ, প্রাইভেটে গিয়ে কীভাবে চিকিৎসা করাব?’

হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাসিনা আক্তার বলেন, প্রতিদিনই অন্তঃসত্ত্বা নারীরা আসেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হয়। এখানে স্বাভাবিক প্রসব ভালোভাবেই হচ্ছে। চলতি মাসে প্রায় ১৫০টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। তবে যেসব রোগীর অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়, তাঁদের জেলা হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকলেও নেই সনোলজিস্ট। ফলে এসব পরীক্ষা করাতে রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।

প্যাথলজি বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অভিজিৎ বণিক বলেন, এখানে প্রতিদিন প্রচুর পরীক্ষা হয়। জনবল না থাকায় আমাকে একাই রক্ত সংগ্রহ, নমুনা প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরীক্ষা ও রিপোর্ট দেওয়ার কাজ করতে হয়। এতে কাজের ওপর চাপ পড়ে এবং কাজে বিঘ্ন ঘটে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসমিন বলেন, জনবল চেয়ে আমরা একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখনো প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া যায়নি।