আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাজেট কমানোর প্রতিবাদে আয়োজিত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পার্লামেন্ট ভবনের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আটজন পুলিশ সদস্য। বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়কর্মী ও শ্রমিক সংগঠনের সদস্যের অংশগ্রহণে পার্লামেন্টের বাইরের সমাবেশটি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছিল। তবে একপর্যায়ে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। জবাবে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া।
২০২৩ সালের শেষ দিকে চরম উদারপন্থী অর্থনীতি ও অতি-ব্যয়সংকোচন নীতির প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় আসেন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই। ক্ষমতায় আসার পর সরকারি ব্যয় ব্যাপকভাবে কমানোয় বড় ধরনের সংকটে পড়েছে দেশের উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত।
'ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চ'-এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয় খাতে সরকারি বরাদ্দ বাস্তবে ৪১ শতাংশ কমেছে। এর ফলে পর্যাপ্ত বেতনের অভাবে শিক্ষকেরা চাকরি ছাড়ছেন এবং শিক্ষা উপকরণ বিকল হয়ে পড়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অর্থায়ন ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০২৫ সালে একটি বিশেষ আইন পাস করে দেশটির পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট মাইলেই এতে ভেটো দিলে পার্লামেন্ট তা সর্বসম্মতিক্রমে প্রত্যাখ্যান করে এবং গত জুনে সুপ্রিম কোর্টও আইনটি বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। তবে বাজেটের ভারসাম্য রক্ষার অজুহাতে সরকারের আইনি পদেক্ষেপের কথা বলে সেই নির্দেশ এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
আইন অমান্য করে বরাদ্দ আটকে রাখায় এ পর্যন্ত পাঁচবার বড় ধরনের বিক্ষোভে উত্তাল হলো বুয়েনস এইরেস। আদালতের রায় উপেক্ষা ও বাজেট ছাঁটাইয়ের কারণে সরকারের সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এই দ্বন্দ্ব আর্জেন্টিনায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।


