যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ফুরিয়ে গেছে ইউক্রেনের। ফলে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে দেশটি আরও ঝুঁকিতে পড়ল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিএনএনের সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় ক্ষেপণাস্ত্রের অভাবে প্রায় সব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যম ইন্টারফ্যাক্স-ইউক্রেনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত চালানো ওই হামলায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কিয়েভের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত হানে। খারকিভেও জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত ইউক্রেনের কাছে থাকা সেই হাতে-গোনা প্রতিরক্ষা অস্ত্রের একটি, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম। সেই ইন্টারসেপ্টর না থাকায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে।
সিএনএনের মতে, ইউক্রেনের ভান্ডার পুরোপুরি শূন্য হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। আগস্টের মাঝামাঝি সিএনএনকে ইউক্রেনের ভেতরে একটি প্যাট্রিয়ট অবস্থান পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। তখন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, দেশটির কাছে প্রায় কোনো ইন্টারসেপ্টরই অবশিষ্ট নেই। একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, প্রয়োজনের মাত্র এক-দশমাংশ ক্ষেপণাস্ত্র তাঁদের হাতে আছে। ১৩ আগস্ট তিনি আরও জানান, গত বছরের তুলনায় ইউক্রেনের কাছে এখন ইন্টারসেপ্টর আড়াই গুণ কম, অথচ রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংকট শুধু ইউক্রেনের নয়। ব্যয়বহুল এসব ইন্টারসেপ্টরের বৈশ্বিক চাহিদাই ঘাটতির বড় কারণ।
এমন সময়ে জেলেনস্কি ব্রাসেলস সফর শুরু করেছেন। নেটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদের জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন। ইউরোনিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে ইউক্রেন একাধিক দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে রুশ শাহেদ ড্রোন প্রায় অবিরাম আকাশে ঘুরছে। রাশিয়া একসঙ্গে প্রায় এক হাজার ড্রোন ছুড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের এই সংকট এমন সময়ে এল, যখন কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চুক্তি এবং রাশিয়ার তেল অবকাঠামোতে ইউক্রেনের হামলা বন্ধের জন্য চাপ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেছেন, অন্তত আরও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর পেলেই কেবল তিনি রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা থামাতে রাজি হতে পারেন। তার অভিযোগ, আরও আকাশ প্রতিরক্ষা চাওয়ার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র স্টারলিংক সেবা দুর্বল করেছে।
ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ইউএনএনের খবরে বলা হয়েছে, জাপান ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র হস্তান্তরের কথা বিবেচনা করছে, তবে এতে কিছু শর্ত বা সীমাবদ্ধতা আছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেন ও ইউরোপের যৌথ উদ্যোগে ‘ফ্রেয়া’ নামে একটি ব্যয়সাশ্রয়ী ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়টের সস্তা বিকল্প হতে পারে। তবে কবে এটি ব্যবহারযোগ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়।


