শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করার সুযোগকে এক ধরনের ইবাদত হিসেবে দেখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষা খাতের মাধ্যমে জাতি গঠনে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা গেলে তা সদকায়ে জারিয়া হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র আয়োজিত বই পড়া কর্মসূচির এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব। তাই এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।
এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার কৃত্রিমভাবে ফল ভালো দেখানোর কোনো চেষ্টা করা হয়নি। পরীক্ষার্থীরা খাতায় যে ধরনের উত্তর লিখেছে, মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সেই অনুযায়ী ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ ও কর্মক্ষম করে তুলতে সরকার কারিগরি শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ভবিষ্যতের কর্মবাজারের চাহিদা বিবেচনায় দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার সম্প্রসারণে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া ঠেকাতেও সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস দেওয়া, মিড-ডে মিল চালু, উপবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে চেষ্টা করা হচ্ছে।
মাদকাসক্তি ও অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে তরুণদের দূরে রাখতে সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশ তরুণদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করতে যে উদ্যোগ নিয়েছে, এ ধরনের আরও কার্যক্রম প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে বইয়ের সাথে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক চিন্তা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, তরুণদের আবার বইমুখী করে তুলতে সরকার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।


