...|...|...

রাজনীতি

শহীদ-আহতদের আত্মত্যাগে ঢাবিতে ইসলামী সংস্কৃতির চর্চার পরিবেশ ফিরেছে: এসএম ফরহাদ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৪
Shares
শহীদ-আহতদের আত্মত্যাগে ঢাবিতে ইসলামী সংস্কৃতির চর্চার পরিবেশ ফিরেছে: এসএম ফরহাদ

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় একসময় কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা রমজানকে স্বাগত জানানোর আয়োজন নিয়ে শিক্ষার্থীদের শোকজ ও বিচারের মুখোমুখি হতে হতো বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার অনুকূল পরিবেশ ফিরে এসেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

এসএম ফরহাদ বলেন, ‘আজকে এখানে দাঁড়িয়ে আমরা কিছু ঐতিহাসিক ঘটনা স্মরণ করতে চাই। যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ আসত, ভিসি অফিস মসজিদের তারাবির নামাজের কারি সাহেবের চাকরি চলে যেত, রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান বা কোনো ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি করা হতো-আজ সেই বটতলাতেই ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশনা উৎসবের সাক্ষী হচ্ছে। এখানে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাসকে প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আজকে আমরা বলতে পারি, ২৪-এর শহীদদের রক্তের বিনিময়ে, আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে আজ এখানে কাউকে ইসলামের কালচার প্র্যাকটিস করতে গিয়ে শোকজের মুখোমুখি হতে হয় না। কোনো হাফেজকে ভয় পেতে হয় না যে তিলাওয়াত করলে চাকরি যাবে; কোনো শিক্ষার্থীকে আতঙ্কিত হতে হয় না যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নোটিশ দেওয়া হবে।’

বিগত দেড় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তুলে ফরহাদ বলেন, ‘গত ১৫ বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে শিবিরের কোনো প্রকাশনা হাতে পেলে শিক্ষার্থীদের চরম নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হতো। কোনো ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পেলে তাকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো। এমনকি মেস থেকে চোখ বেঁধে শিক্ষার্থীদের ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে দিয়ে বলা হতো-তাদের হাতে অস্ত্র ছিল, তারা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছে। অথচ বাস্তবে তাদের সামনে জঙ্গি উপাদান হিসেবে সাজিয়ে রাখা হতো আমাদের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ এই ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে পুরো জাতির সামনে আমরা আমাদের সেই সব প্রকাশনা তুলে ধরেছি। দেশবাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা আজ এসে নিজেরাই পর্যবেক্ষণ ও বিচার করুক-কী উপাদান আসলে বিগত ফ্যাসিবাদের জন্য ভয়ের কারণ ছিল? মূলত আমরা ইসলামের কথা বলতাম, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতাম। আমরা চাইতাম তরুণ প্রজন্ম একটি আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল প্রজন্ম হিসেবে গড়ে উঠুক এবং আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত হোক। আর এই সত্যের বাণীকেই তারা ভয় পেত।’

প্রকাশনা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়ে ছাত্রশিবিরের এই নেতা বলেন, শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো বছরই তাদের প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। একটি ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা, কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।