সৌদি আরবের লোহিত সাগরীয় বন্দরে আরোপিত সামুদ্রিক অবরোধ লঙ্ঘনের জবাবে দেশটির উদ্দেশে যাত্রা করা দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে।
‘এনসেলিয়া’ ও ‘লায়লা’ নামক ট্যাংকার দুটিতে সফল হামলার পাশাপাশি আরও অন্তত ১০টি বাণিজ্যিক জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিরা। এতে লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ-চলাচল এবং সৌদি-ইয়েমেন যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হুথিদের প্রধান মুখপাত্র ইয়াহইয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন আল-মাসিরাহ টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইয়েমেনি সশস্ত্র বাহিনী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি জানান, সৌদি আরবের বন্দরগামী জাহাজের ওপর তাদের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় এনসেলিয়া ও লায়লা নামের ট্যাংকার দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলায় দুটি ট্যাংকারেই আগুন ধরে যায় এবং তাদের অভিযান সম্পূর্ণ সফল হয়েছে বলে দাবি করলেও, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।
এদিকে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (UKMTO) জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের আল-শুকাইক উপকূল থেকে প্রায় ৭০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, আঘাতের পর জাহাজে আগুন ধরে গেলে নাবিকরা তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। তবে হুথিদের এই দাবি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মূলত সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত আকাশসীমায় বিধিনিষেধ বজায় রাখায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে দুই দিন আগে সামুদ্রিক অবরোধ সম্প্রসারণের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল হুথিরা। এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করাতেই সদ্য ঘোষিত পদক্ষেপর অংশ হিসেবেই এ হামলা চালানো হলো।

