...|...|...

জাতীয়

লিগ্যাল অফিসার হিসেবে যেসব কাজ করবেন জাইমা রহমান

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:২৪ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৩২
Shares
লিগ্যাল অফিসার হিসেবে যেসব কাজ করবেন জাইমা রহমান

লিগ্যাল অফিসার জাইমা রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জাইমা রহমান। জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকায় তার নাম ও পদবি উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সভাপতির কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে কাজ করবেন।

জাইমা রহমানের দায়িত্ব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তার কাজ কী এবং কী ধরনের আইনি বিষয়ে তিনি সভাপতিকে সহায়তা করবেন, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি ২০২৬ সালের ২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৮১তম অধিবেশন শুরু হয়েছে ৮ সেপ্টেম্বর।

লিগ্যাল অফিসারের দায়িত্ব কী

লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমান মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির বিভিন্ন কার্যক্রমের আইনি দিক নিয়ে কাজ করবেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো প্রস্তাব, সংশোধনী, নিয়ম বা পদ্ধতি নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠলে সে বিষয়ে সভাপতিকে পরামর্শ দেওয়াই এ পদের অন্যতম দায়িত্ব।

সাধারণ পরিষদের কোনো অধিবেশনে কোনো দেশ ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তুললে সভাপতি কী সিদ্ধান্ত বা রুলিং দেবেন, কোনো প্রস্তাবের সংশোধনী গ্রহণযোগ্য কি না কিংবা কোনো সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়ম ও বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না- এসব বিষয়ে আইনি পরামর্শ দিতে পারেন লিগ্যাল অফিসার।

এ ছাড়া সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিন, ইউক্রেনসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এসব ক্ষেত্রে সভাপতি যাতে জাতিসংঘের সনদ, বিধি ও প্রচলিত নজিরের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন, সে বিষয়ে আইনি সহায়তা দেওয়াও এই পদের গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

কোনো প্রস্তাব বা রেজুলেশন জাতিসংঘের বিদ্যমান নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক কি না, বাজেটসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অন্য কোনো কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে কি না- এ ধরনের বিষয়ও যাচাই করতে হয় লিগ্যাল অফিসারকে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক মুন্সি ফয়েজ আহমেদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি যেসব দায়িত্ব পালন করবেন, সেসবের আইনি দিক দেখভাল করাই লিগ্যাল অফিসারের মূল কাজ। একইসাথে এ পদে কিছু দাফতরিক দায়িত্বও রয়েছে।

জাতিসংঘের মূল আইন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি সংস্থার সাথে সভাপতির কার্যালয়ের সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি বা আইনি বিষয়ে সভাপতির বক্তব্যের খসড়া তৈরিতেও সহায়তা করতে পারেন লিগ্যাল অফিসার।

অর্থাৎ, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যক্রম যেন জাতিসংঘের আইন, বিধি ও প্রতিষ্ঠিত রীতির মধ্যে থেকে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করতে আইনি সহায়তা দেওয়াই এ পদের মূল দায়িত্ব।

কীভাবে নিয়োগ হয়

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ৪০ সদস্যের একটি দল কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিয়ে গঠিত এই দলে বাংলাদেশের নাগরিকও রয়েছেন। সভাপতির কার্যালয় সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে তার দায়িত্ব পালনে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে।

জাইমা রহমান ছাড়াও সেখানে বাংলাদেশের আরও কয়েকজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন কূটনীতিক মো. আব্দুল আলিম, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন, মফিজুল ইসলাম, জাকির আহমেদ এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী কর্মীদের পাশাপাশি সভাপতির নিজস্ব এখতিয়ারেও কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করা যায়। সভাপতির প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কার্যালয়ের টিম গঠন করা হতে পারে।

তবে এ ধরনের পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে।

জাইমা রহমানের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা

জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে জাইমা রহমানকে ব্যারিস্টার এবং আইন ও নীতি বিষয়ে পেশাজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে আইন ও রাজনীতি বিষয়ে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। পাশাপাশি ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টারি পেশায় প্রবেশের স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান দ্য অনারেবল সোসাইটি অব দ্য ইনার টেম্পলের সাথে তার পেশাগত যোগ্যতার সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশেও তিনি তালিকাভুক্ত অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করছেন বলে জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে যুক্তরাজ্যে আবাসন, জনকল্যাণ ও শ্রম আইন নিয়ে কাজ করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে আইনি পরামর্শ, জনসংযোগ এবং সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষা আইনে বিনামূল্যে আইনি সেবা দেওয়ার অভিজ্ঞতাও তার রয়েছে বলে ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে।

সুশাসন, অন্তর্ভুক্তিমূলক জননীতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার, শিক্ষা ও লিঙ্গসমতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পেশাগত আগ্রহের কথাও সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদের মতে, লিগ্যাল অফিসার হিসেবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা জাইমা রহমানের রয়েছে। তবে সভাপতির আইনি কার্যক্রমে সহায়তা করা একটি দলগত কাজ; তিনি একাই সব দায়িত্ব পালন করবেন এমন নয়।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতি অধিবেশনের প্লেনারি কার্যক্রম পরিচালনা, সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও পরামর্শে ভূমিকা রাখা এবং সাধারণ পরিষদের প্রতিনিধিত্ব করেন। ফলে এসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তার পাশাপাশি আইনি পরামর্শও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।