...|...|...

সারাদেশ

লালমনিরহাটে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় স্বামী গ্রেফতার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৭
Shares
লালমনিরহাটে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় স্বামী গ্রেফতার

গ্রেফতার আসামি বেলাল হোসেন (৩৭)। ছবি: টাইমস টুডে

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ ও নগ্ন ভিডিও ধারণের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি বেলাল হোসেনকে (৩৭) গ্রেফতার করেছে এসআরবি-১৩।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার তুষভাণ্ডার বাজারের রওশন ফিলিং স্টেশনের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান রংপুর এসআরবি-১৩-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার মুহম্মদ মনিরুজ্জামান।

গ্রেফতার বেলাল উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শৌলমারী গ্রামের আবদুল সাত্তারের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে বেলালের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছিলেন ওই নারী। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে বেলাল তাকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর আগের মামলা তুলে নিতে ওই নারীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে তিনি বেলালকে তালাক দেন।

এজাহারে বলা হয়, তালাকের পর বেলাল ওই নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও মুঠোফোনে পাঠিয়ে তাকে দেখা করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। গত ৬ অক্টোবর ওই নারী কালীগঞ্জের সিরাজুল মার্কেটের কাছে পৌঁছালে বেলাল ও তার সহযোগীরা তাকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে ভুল্লারহাট বাজারের মেহের আলীর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে দুই দিন আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ৮ অক্টোবর তাকে বেলালের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে বেলাল ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরদিন ৯ অক্টোবর তার নগ্ন ভিডিও ধারণের চেষ্টা করা হলে, তিনি তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে আব্দুস সাত্তার নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৯ অক্টোবর তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে ২৫ অক্টোবর তিনি বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২৯।

এসআরবি-১৩ জানায়, মামলা দায়েরের পর আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। গ্রেফতারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মনজুরে মওলা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বেলাল হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।