এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা সংস্থা বার্কলে আর্থের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছর ২০২৪ সালের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক তাপমাত্রার রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। তা না হলে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
বার্কলে আর্থের প্রধান বিজ্ঞানী রবার্ট রোড সতর্ক করে বলেছেন, আগামী এক বছরে আবহাওয়া ও প্রকৃতিতে আরও চরম পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব বৈশ্বিক পরিবেশ ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমুদ্রের পানি অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠাকে এল নিনো বলা হয়। এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। পশ্চিম ও দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলসহ কিছু এলাকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।
বার্কলে আর্থের তথ্য অনুযায়ী, জুনে শুরু হওয়া এবারের এল নিনো প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে ২০২৬ সাল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার সম্ভাবনা জুলাইয়ের ১২ শতাংশ থেকে আগস্টে বেড়ে ৬৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, পূর্ব ট্রপিক্যাল প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র তাপপ্রবাহ ও দাবানলের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বড় অংশ পড়েছে তীব্র গরমের কবলে।
আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ অথবা দ্বিতীয় উষ্ণতম মাস।
তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো মূলত সাময়িকভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সংকটের প্রধান কারণ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণজনিত বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। তাই একটি বছরের তাপমাত্রার রেকর্ডকে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে এক করে দেখা ঠিক নয়।


