...|...|...

সারাদেশ

রাঙামাটিতে গ্যাসের তীব্র সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

রাঙামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৩৭
Shares
রাঙামাটিতে গ্যাসের তীব্র সংকট, ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সারি

রাঙামাটিতে তীব্র আকার ধারণ করেছে এলপিজি সংকট। কয়েক দিন ধরে শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি ও অটোরিকশাচালকরা। শনিবার (৩ অক্টোবর) থেকে শহরের একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশনে সীমিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হলেও সেখানে দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। গ্যাস নিতে আসা অটোরিকশার লাইন প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গ্যাসের আশায় সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে সিএনজি ও অটোরিকশা নিয়ে চালকরা ফিলিং স্টেশনের সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে দীর্ঘ সারি সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক চালককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।

চালকদের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে রাঙামাটি শহরের পাম্পগুলোতে এলপিজির সংকট চলছে। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ অনেক কম থাকায় গ্যাস নিতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে একদিকে কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দৈনিক আয়-রোজগারেও প্রভাব পড়ছে।

একাধিক অটোরিকশাচালক বলেন, প্রতিদিন গাড়ি নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে যাত্রী পরিবহনের পরিবর্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় অনেক সময় গাড়ির গ্যাস শেষ হয়ে যায়। এতে যাত্রী পরিবহনও বন্ধ রাখতে হচ্ছে। দ্রুত সংকটের সমাধান না হলে পরিবহন খাতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

মেসার্স হিল ভিউ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. মহসিন বলেন, আমরা মাত্র ২ হাজার লিটার এলপিজি পেয়েছি। সরবরাহ কম থাকায় প্রতিটি গাড়িকে ৩০০ টাকার করে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।

চালকরা বলেন, রাঙামাটি একটি পর্যটননির্ভর পাহাড়ি জেলা। শহরের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের পাশাপাশি পর্যটক ও স্থানীয় মানুষের চলাচলেও সিএনজি ও অটোরিকশার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট দেখা দিলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি পর্যটকরাও ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

তাদের দাবি, দ্রুত রাঙামাটিতে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে চালকদের দুর্ভোগের পাশাপাশি শহরের গণপরিবহন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।