...|...|...

ক্যাম্পাস

যে কারণ দেখিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৫৩
Shares
যে কারণ দেখিয়ে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান করলেন ঢাবি ছাত্রলীগ নেত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে স্নাতক পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেননি নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের উপ-উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন বিষয়ক সম্পাদক তাহসিন জাহান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাজনৈতিক পরিচয় ও মতাদর্শের কারণে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় তাদের পাশে দাঁড়ায়নি-এমন অভিযোগ তুলে তিনি পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি জানান তাহসিন জাহান।

তাহসিন জাহান জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার দিনটির অপেক্ষায় ছিলেন। চার বছরের পড়াশোনায় কঠোর পরিশ্রম ও বহু নির্ঘুম রাতের পর নিজ বিভাগে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কারটি পাওয়ার কথা ছিল তার।

তার ভাষ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ফল করা শিক্ষার্থীদের দেওয়া এই পুরস্কার তার কাছে অত্যন্ত সম্মানের ছিল। তাই বহু কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। তবে তার কাছে একটি পুরস্কারের মর্যাদার চেয়ে প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তাহসিন জাহান ২০২৪ সালের নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তার দাবি, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি মবের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, কোনো সহিংসতার সাথে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় ও নিজ বিভাগের ভেতরে তাকে হুমকির মুখে পড়তে হয়। এমনকি ফাইনাল ভাইভায় অংশ নেওয়া এবং স্নাতক থিসিস জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। নিরাপত্তার কারণে একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে ফিরতেও পারেননি।

তাহসিন জাহানের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক তখন শিক্ষার অধিকার রক্ষায় তার পাশে দাঁড়ান। তাদের সহযোগিতায় নিরাপদ স্থান থেকে অনলাইনে ফাইনাল ভাইভায় অংশ নিয়ে তিনি স্নাতক সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। ওই শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।

তবে একই সাথে তিনি ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক’-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে তাদের নৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন।

তাহসিন জাহান দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ পেয়েছেন। পরে হার্ভার্ডে গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে তার মতো সুযোগ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাহসিন। তার অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় প্রশাসন নীরব ছিল এবং তিনি যাকে ‘মৌলবাদী মব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাদের প্রতি নীরব সমর্থন দেখিয়েছে।

তাহসিন জাহান বলেন, এমনকি কারাগারে থাকা গুরুতর অপরাধীরও শিক্ষা গ্রহণের অধিকার রয়েছে। অথচ দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হলেও তাদের অধিকার রক্ষায় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তোফাজ্জল, মাসুদ ও শামীমসহ আরও অনেক মানুষের মৃত্যুর জন্য এসব প্রতিষ্ঠানের দায় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার পতনের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়ে থাকলে এখনো কেন অনেক শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছেন না-এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সাথে এসব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এখন কী যুক্তি বা অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চান।

নিজের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করা শিক্ষকদের অবদানের কথা স্বীকার করে তাহসিন বলেন, তার অর্জনের পেছনে ওই শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং এ কৃতিত্ব তাদের প্রাপ্য।

তবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও এমন একটি প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া পুরস্কার গ্রহণ করে নিজের অর্জন উদযাপন করা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি তার মতো অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সময় পাশে দাঁড়ায়নি।

তাহসিন জাহানের দাবি, ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত কোনো পুরস্কারকে অসম্মান করার উদ্দেশ্যে নয়। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে শিক্ষার অধিকার হারানো সহপাঠীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।