গাজীপুর সদর উপজেলায় এক নারীকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজিজুল হক ওরফে জয়নাল (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি মনিপুর বাজার এলাকার ‘আর রহমান ডেন্টাল কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে ডেন্টিস্ট পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেফতারের পর সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী (৩০) তার ফুফুর দাঁতের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আজিজুল হকের সাথে পরিচিত হন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আজিজুল তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করতেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে হোতাপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করার সময় আজিজুল হক ও তার সহযোগী মুরাদ হোসেনের সাথে ওই নারীর দেখা হয়। জরুরি কথা বলার কথা বলে তাকে সদর উপজেলার নৌলাপাড়া এলাকার দিবানিশী মোড়ে ডেকে নেওয়া হয়।
সেখানে যাওয়ার পর আজিজুল তার সহযোগীর সহায়তায় ওই নারীকে একটি ঘরে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে হত্যার ভয় দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত ওই নারীকে ঘরটিতে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা বাইরে গেলে কৌশলে সেখান থেকে বেরিয়ে ভবানীপুর এলাকায় তার ছোট বোনের ভাড়া বাসায় আশ্রয় নেন তিনি। পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
আজিজুল হকের বিরুদ্ধে এর আগেও ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় তিনি এর আগে গ্রেফতার হয়েছিলেন এবং জেলও খেটেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজুল নিজেকে সাংবাদিক ও জামায়াতের কর্মী হিসেবেও পরিচয় দিতেন। তবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে প্রায় এক বছর আগে তাকে দলীয় কর্মী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতির একটি ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আজিজুল নিজেকে ডেন্টিস্ট ও হাকিম এবং ডা. পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। তার চিকিৎসার তালিকায় চর্ম ও যৌনরোগ, হাঁপানি, বাতব্যথা, পক্ষাঘাত, সাদাস্রাব, অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ্যত্ব, মৃগীরোগ, নাকের পলিপ, গলার টনসিল, অর্শ, কিডনিতে পাথর, স্তন ও জরায়ুর টিউমারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার কথা উল্লেখ রয়েছে তার যোগাযোগ কার্ডে।
তবে এসব রোগের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও স্বীকৃত পেশাগত নিবন্ধন না থাকলেও নিজেকে ডাক্তার বলে পরিচয় দিতেন। আর এসব কর্মকাণ্ডে ভুয়া চিকিৎসক পরিচয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ঘটনায় এর আগেও তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে আজিজুল আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার রাতে মনিপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আরও জানান, আজিজুল এর আগেও ভুয়া চিকিৎসক সংক্রান্ত মামলায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছেন।


