...|...|...

বিশ্ব

ভারতের দাবি করা ‘মৃত’ সেনাকে জীবিত হাজির করল পাকিস্তান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৫৪
Shares
ভারতের দাবি করা ‘মৃত’ সেনাকে জীবিত হাজির করল পাকিস্তান

ছবি: সংগৃহীত

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে যাকে ‘বিদ্রোহী কমান্ডার’ হিসেবে হত্যা করার দাবি করেছিল ভারতীয় সামরিক বাহিনী, সেই সাবেক পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে জীবিত অবস্থায় মিডিয়ার সামনে হাজির করেছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে ভারতের ওই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসলামাবাদ।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এক তেজদীপ্ত ও জমজমাট সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এই ভুয়া তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান।

টিআরটি ওয়ার্ল্ডের অনুযায়ী, সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যক্তিকে মোহাম্মদ আসিফ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন লে. জেনারেল শরিফ। আসিফ নিজে গণমাধ্যমের সামনে এসে জানান যে তিনি একজন সাবেক পাকিস্তানি সেনাসদস্য, যিনি ২০২৩ সালে অবসরগ্রহণ করেছেন।

এর আগে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল যে, ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গোয়েন্দাভিত্তিক এক অভিযানে লস্কর-ই-তাইয়েবার এক শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ওই কমান্ডারকে ‘মুসা’ এবং ‘আসিফ ফৌজি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল দিল্লি। ভারতীয় মন্ত্রণালয়ের দাবি ছিল, ২০২২ সাল থেকে ওই বিতর্কিত অঞ্চলে বড় ধরনের কয়েকটি হামলার পেছনে থাকা চার কমান্ডারের দলের সর্বশেষ জীবিত সদস্য ছিলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে কৌতুকের সুরে পাকিস্তানি সামরিক মুখপাত্র বলেন, তাহলে এই সেই সুপারম্যান! আপনারা এই সুপারম্যানকে দেখতে পাচ্ছেন। দয়া করে আসুন, আমার ভাই। আমাদের বলুন আপনাদের এই সমস্ত অর্জন সম্পর্কে, আপনারা কী কী করে বেড়াচ্ছেন।

আসিফ গণমাধ্যমকে জানান, কাশ্মীরে বন্দুকযুদ্ধে তার নিহত হওয়ার খবর ভারতীয় গণমাধ্যমে দেখার পর তার বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে তার সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, তাদের উদ্বেগের জবাবে আমি বলেছিলাম যে আমি এখানেই আছি, বেঁচে আছি এবং সুস্থ আছি।

আসিফ আরও জানান, নিজের পরিচয় স্পষ্ট করতেই তিনি সামনে এসেছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তার নিহত হওয়ার খবর প্রচারের সময় তার আসল জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যক্তিগত সামরিক রেকর্ড প্রদর্শন করায় তিনি দারুণভাবে বিস্মিত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমি ভারতীয় নিউজ সম্প্রচারে আমার ছবি এবং ব্যক্তিগত সামরিক রেকর্ড দেখতে পেয়েছি, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে আমাকে কাশ্মীরে শহিদ করা হয়েছে। আমি সম্পূর্ণ অবাক হয়েছিলাম। আমি বাড়িতে বসে আছি, অথচ তারা দাবি করছে যে তারা আমাকে কাশ্মীরে হত্যা করেছে! আল্লাহর অশেষ রহমতে আমি বেঁচে আছি এবং আপনাদের সামনে উপস্থিত আছি।

পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র শরিফ চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী সহিংসতার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করতে ভারত কাল্পনিক অভিযোগ ও সাজানো অপারেশন চালাচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং বিব্রতকর একটি বিষয়। কোনো আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি এমনটা করে না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ভারত মুসলিম কাশ্মীরিদের কারাবন্দী করে রাখছে। শরিফ বলেন, তারা তাদের বাইরে নিয়ে যায়, হত্যা করে এবং এটিকে ‘ফ্যালস ফ্ল্যাগ অপারেশন’ বা সাজানো ঘটনা হিসেবে চিত্রিত করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে চালায়।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবার তারা এক ধাপ এগিয়ে গেছে; তারা ভেবেছে এটা যথেষ্ট সুস্বাদু নয়, তাই চলো পাকিস্তানের একজন সেনা সদস্যকে নিয়ে এসে তাকে আমাদের হাতে নিহত বলে প্রচার করি।

পারমাণবিক শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এই ঘটনার জেরে নতুন করে কোনো সশস্ত্র সংঘাত বাঁধতে পারে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফ জানান যে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো আগ্রাসনের অত্যন্ত ‘কঠোর’ জবাব দেওয়া হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, তারা যদি কিছু করতে চায়, মোস্ট ওয়েলকাম। তবে এটি পরিষ্কার থাকুক যে এবার আমরা তাদের এত সহজে ছাড়ব না। এবার পাকিস্তান তাদের কৌশলগত ভুলের এমন মারাত্মক মাশুল আদায় করবে যা অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।

উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্ক রয়েছে এবং ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকে দুই দেশ তিনটি যুদ্ধ লড়েছে, যার মধ্যে দুটিই হয়েছিল কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। হিমালয়ের কোলঘেঁষা এই বিতর্কিত অঞ্চলটি উভয় দেশই সম্পূর্ণ নিজেদের দাবি করলেও বর্তমানে এটি বিভক্ত রয়েছে।

দিল্লির শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গণঅভ্যুত্থান শুরু হওয়ার পর থেকে ভারত এই অঞ্চলে পাঁচ লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। অধিকাংশ কাশ্মীরিই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের ভোটাভুটির মাধ্যমে হয় পাকিস্তানের অধীনে অথবা স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেদের অঞ্চলকে একত্র করার বিদ্রোহী দাবিকে সমর্থন করে আসছে। ভারতের শাসনের বিরুদ্ধে এই সশস্ত্র বিদ্রোহে প্রধানত বেসামরিক নাগরিকসহ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।