...|...|...

চট্টগ্রাম

ভাঙা ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৩৩ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১৫
Shares
ভাঙা ভবনে চলছে পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

ভাঙা ভবনে চলছে পাঠদান। ছবি: টাইমস টুডে

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। তার ওপর বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের মধ্যেই চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠদানের জন্য পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নেই। মাত্র দুটি কক্ষে কোনো রকমে শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান করতে হয়। ফলে স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও তৈরি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের দেয়াল ও বিভিন্ন অংশে ফাটলের চিহ্ন রয়েছে। শ্রেণিকক্ষের ছাদ ও দেয়ালের অবস্থাও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। এতে ভিজে যায় মেঝে ও শিক্ষার্থীদের বসার জায়গা। কখনো কখনো বৃষ্টির কারণে পাঠদানও ব্যাহত হয়।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে পাঠদান করতে গিয়ে তাদেরও সব সময় সতর্ক থাকতে হয়। বিশেষ করে ভারী বৃষ্টি হলে ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একসাথে পাঠদান করানোয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অভিভাবকেরাও সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পান। মাত্র দুটি কক্ষে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে। অনেক কষ্টের মধ্যেই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ না থাকায় শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পরিবেশে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি।

অভিভাবকেরা বলেন, শিশুদের পড়াশোনার জন্য বিদ্যালয়ে পাঠালেও ভবনের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। বৃষ্টি হলে ছাদ দিয়ে পানি পড়া এবং দেয়ালে ফাটল থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, নিরাপদ পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থা করতে হবে।

দীঘিনালা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কণিকা খীশা বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন ঝুঁকিপূর্ণ- এ বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিদ্যালয়টি ১৯৯৬ সালে নির্মিত। বিষয়টি জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম এলাকার এই বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান দীর্ঘদিনেও না হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা। একটি নিরাপদ ও উপযোগী বিদ্যালয় ভবন শুধু পাঠদানের পরিবেশই নিশ্চিত করবে না, অভিভাবকদের উদ্বেগও কমাবে। তাই বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় না রেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।