বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের হারের পর নেইমার অবসরের ইঙ্গিত দেন। এবার জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি নিশ্চিত করলেন, সেলেসাওদের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাদের সর্বকালের শীর্ষ গোলদাতাকে।
সরাসরি অবসরের কথা না জানালেও ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে নেইমারের অবসরের দাবি করেছেন।
সম্প্রতি পরবর্তী ফিফা উইন্ডোর জন্য ব্রাজিলের স্কোয়াড ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে এই দুটি ম্যাচের দলে জায়গা হয়নি নেইমারের। অনেকেই আঁচ করতে পেরেছেন জাতীয় দলে তার অধ্যায় শেষ।
এবার সিএনএন স্পোর্তেসকে এক সাক্ষাৎকারে ইতালিয়ান কোচ বললেন, জাতীয় দলে আর না ফেরার সিদ্ধান্তটা নেইমারের নিজের।
সবশেষ বিশ্বকাপের আগে লম্বা সময় মাঠের বাইরে ছিলেন নেইমার। ইনজুরি জর্জরিত দুঃসময় কাটিয়ে আনচেলত্তির বিশ্বকাপ দলে ডাক পান তিনি। কিন্তু তার ফিটনেসের কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন। যদিও আনচেলত্তি তাকে দলে রাখার সিদ্ধান্তকে যথার্থ দাবি করলেন।
আনচেলত্তি নেইমারের অবসরের কথা নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘তার মানের কারণেই সেখানে (বিশ্বকাপ দলে) থাকার যোগ্যতা তার ছিল। নেইমার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে ফিরতে চায় না। নেইমারের বিকল্প হতে পারে না কারণ সে ছিল এক অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা। সুতরাং সে একজন অপরিহার্য খেলোয়াড়।’
এর আগে নরওয়ের কাছে ব্রাজিলে ম্যাচ হারের পর দলবদল বিষয়ক প্রখ্যাত সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো তার পোস্টে নেইমারের অবসরের কথা জানান। তিনি লেখেন, ‘ব্রেকিং: নেইমার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরে নিয়েছেন।’ এরপর নেইমারের বক্তব্যও ক্যাপশনে লেখেন তিনি। সেখানে লেখা, ‘আমি চেষ্টা করেছিলাম, আমি সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই আমি শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।’
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হওয়া নেইমার ব্রাজিলের হয়ে মোট চারটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চের সোনালি ট্রফি অধরা থাকলেও দেশের হয়ে তার রয়েছে দারুণ সব কীর্তি। ব্রাজিলের জার্সিতে দুটি অলিম্পিক টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ২০১২ সালে রৌপ্য পদক এবং পরবর্তীতে ২০১৬ সালে দলকে ঐতিহাসিক অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতাতে নেতৃত্ব দেন তিনি।
৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড সেলেসাওদের জার্সিতে ১২৯ ম্যাচে রেকর্ড ৮০টি গোল করে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার বর্ণিল ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। শেষ বিশ্বকাপে ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যার কারণে শুরুর একাদশে নিয়মিত ছিলেন না নেইমার। আসরে মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পান তিনি। গ্রুপ পর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় হাফে মাঠে নামার পর বিদায়ী ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে টুর্নামেন্টে নিজের একমাত্র গোলটি করেন ব্রাজিলের এই তারকা খেলোয়ার।


