...|...|...

জাতীয়

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, গেজেট প্রকাশ করল সরকার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪১ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৭
Shares
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে নতুন নীতিমালা, গেজেট প্রকাশ করল সরকার

ছবি: সংগৃহীত

সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা বা ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন বিধিতে ই-রিকশার নিবন্ধন ও নবায়ন ফি, গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চলাচলের রুট এবং ব্যাটারি চার্জিংয়ের বিষয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার ও বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চার যাত্রীর ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ১০ হাজার ও বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। সব ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি ১ হাজার টাকা। আবেদনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বর ও ব্লু-বুক দেওয়া হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই নিবন্ধনে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা নেওয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানো যাবে না।

বিধিমালায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার এবং স্কুল, হাসপাতাল ও উপাসনালয় এলাকায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। গাড়ির মেয়ার্দ বা অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। প্রতিটি গাড়িতে স্পিডোমিটার বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ই-রিকশা কোনো জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি করিডোর বা নিষিদ্ধ সড়কে চলতে পারবে না। ট্রাফিক বিভাগ ও সিটি করপোরেশন যৌথভাবে জোনভিত্তিক আলাদা রঙ ও রুট নির্ধারণ করবে। অননুমোদিত জোনে বা নিষিদ্ধ সড়কে চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিংকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

ব্যাটারি চার্জের ক্ষেত্রে কেবল সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত নির্দিষ্ট চার্জিং পয়েন্ট ব্যবহার করতে হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারে শাস্তির কথা বলা হয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় পুরোনো ব্যাটারি যেখানে-সেখানে ফেলা বা পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নতুন ব্যাটারি বিক্রির সময় বিক্রেতাকে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করে অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠাতে হবে।

নতুন এই বিধিমালা জারির মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর জারি করা পূর্বের বিধিমালাটি রহিত করা হয়েছে।