...|...|...

সারাদেশ

বেনাপোল বন্দরে ৭৯ পদ শূন্য, পণ্যের জটে বাড়ছে বাণিজ্য ব্যয়

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, রাত ১২:৩৩ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:৫২
Shares
বেনাপোল বন্দরে ৭৯ পদ শূন্য, পণ্যের জটে বাড়ছে বাণিজ্য ব্যয়

ছবি: টাইমস টুডে

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে জনবল সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বন্দরের অনুমোদিত বিভিন্ন পদের মধ্যে ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রয়োজনের তুলনায় কম জনবল দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য খালাস, গুদাম ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায়। ফলে বাড়ছে ব্যবসায়ীদের সময় ও পরিবহন ব্যয়।

বেনাপোল স্থলবন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গুদাম, ইয়ার্ড পরিচালনাসহ বিভিন্ন দায়িত্বে অনুমোদিত ২১৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৪১ জন। ফলে ৭৫টি পদই খালি রয়েছে। কর্মকর্তা পর্যায়ের শূন্য পদসহ বন্দরে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৭৯টি।

সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে উপপরিচালক পদে। বেনাপোল বন্দরে অনুমোদিত চারটি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। অর্থাৎ তিনটি পদই শূন্য। একজন কর্মকর্তাকেই একাধিক দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে একই পদে অনুমোদিত চারজনের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন সাতজন কর্মকর্তা। অর্থাৎ সেখানে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে তিনজন বেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালকের পদটিও গত ৩ আগস্ট থেকে শূন্য রয়েছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই স্থলবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ পদে এখনো নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, তদারকি ও বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয় কার্যক্রমে চাপ তৈরি হয়েছে।

জনবল সংকটের কারণে বন্দরের পণ্য ব্যবস্থাপনায় ধীরগতি তৈরি হচ্ছে। আমদানি করা পণ্য দ্রুত খালাসের জন্য প্রতিটি ধাপে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় একই ব্যক্তিকে একাধিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে কাজের চাপ বাড়ার পাশাপাশি পণ্য খালাসে অতিরিক্ত সময় লাগছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, পণ্য খালাসে এক দিন অতিরিক্ত সময় লাগলেও এর প্রভাব পড়ে ব্যবসায়ীদের ওপর। বাড়ে পরিবহন খরচ, পণ্য সংরক্ষণ ব্যয় এবং বন্দরের জায়গা ব্যবহারের সময়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে আমদানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতিতেও।

বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু বলেন, জনবল সংকটের কারণে আমদানিকৃত পণ্য যথাসময়ে লোড-আনলোড করা যাচ্ছে না। অনেক সময় এক দিনের কাজ দুই দিনে শেষ করতে হচ্ছে। দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় একটি অংশ বেনাপোল বন্দরের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর প্রভাব বাজারেও পড়তে পারে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, দ্রুত জনবল নিয়োগের পাশাপাশি বর্তমান জনবল কাঠামো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। ঢাকায় অতিরিক্ত থাকা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী মাঠ পর্যায়ে পদায়নের বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দরে বর্তমানে জনবল সংকট রয়েছে। সংকট নিরসনে দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।