বাতাসে ক্ষতিকর দূষণকারী কণার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী ঢাকা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ছুটির দিনেও নগরীর বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে। এতে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৮১। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরগুলোর তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে রাজধানী।
একই সময়ে ২৩৬ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিঙ্গাপুর। ১৮৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। ১৮৪ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। আর ১৭৮ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর।
তালিকার শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য শহরের বায়ুমান সূচকও ১৬০ থেকে ২৩৬-এর মধ্যে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বায়ুমান সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসের মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।
এ ছাড়া ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর হলে বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সে হিসাবে ঢাকার ১৮১ স্কোরের অর্থ, নগরীর বাতাস বর্তমানে অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে থাকলে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। দূষিত বাতাসে দীর্ঘ সময় অবস্থান করলে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং আগে থেকে থাকা শারীরিক জটিলতা আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বাইরে অবস্থানের সময় কমানো এবং অন্যদেরও অপ্রয়োজনীয় বাইরের কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাইরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত মাস্ক ব্যবহার ও ঘরের ভেতরের বাতাস পরিষ্কার রাখার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।


