...|...|...

লাইফস্টাইল

বিশ্ব রেঞ্জার দিবস আজ: প্রকৃতি রক্ষার নীরব যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৬, সকাল ৯:৪৯ | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:০৬
Shares
বিশ্ব রেঞ্জার দিবস আজ: প্রকৃতি রক্ষার নীরব যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা

বিশ্বজুড়ে শুক্রবার (৩১ জুলাই) পালিত হচ্ছে বিশ্ব রেঞ্জার দিবস। বন, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করা রেঞ্জারদের অবদানকে সম্মান জানানো এবং দায়িত্ব পালনকালে নিহত ও আহত রেঞ্জারদের স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য হলো ‘Rangers: Guardians of a Changing Planet’ (পরিবর্তনশীল পৃথিবীর অভিভাবক রেঞ্জাররা), যা জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে রেঞ্জারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রতি গুরুত্বারোপ করে।

বিশ্ব রেঞ্জার দিবসের সূচনা হয় ২০০৭ সালে। আন্তর্জাতিক রেঞ্জার ফেডারেশন (International Ranger Federation-IRF) এবং দ্য থিন গ্রিন লাইন ফাউন্ডেশন-এর উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর বিশ্ব রেঞ্জার দিবস উদযাপনের দুই দশক পূর্তি উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, স্মরণানুষ্ঠান এবং বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক নানা কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, বন্যপ্রাণী পাচার, অবৈধ শিকার এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে রেঞ্জারদের দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও বেড়েছে। তারা শুধু বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করেন না; জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, বনভূমিতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দুর্গম বনাঞ্চলে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা প্রতিদিন দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

বাংলাদেশেও বন বিভাগের রেঞ্জাররা সুন্দরবন, পার্বত্য বনাঞ্চল, জাতীয় উদ্যান এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। রয়েল বেঙ্গল টাইগার, এশীয় হাতি, চিত্রা হরিণ, কুমিরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষা, বনাঞ্চলে নিয়মিত টহল, অবৈধ দখল ও বনজ সম্পদ পাচার প্রতিরোধে তাদের অবদান উল্লেখযোগ্য। একই সাথে বন আগুন নিয়ন্ত্রণ, বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতেও তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

পরিবেশবিদদের মতে, বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে রেঞ্জারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি বন রক্ষায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ আরও টেকসই হবে

বিশ্ব রেঞ্জার দিবসে প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিতপ্রাণ সব রেঞ্জারের প্রতি জানানো হচ্ছে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ও সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে এই নীরব যোদ্ধাদের অবদান যথাযথ মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।