...|...|...

অন্যান্য

বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবস আজ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩২
Shares
বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

আজ ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার), ‘বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবস ২০২৬’। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী আবিষ্কার অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান বা অবশ করার বিদ্যা)। প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর ব্যথা উপশম এবং নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের (অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ) অবদানকে স্মরণ ও সম্মান জানাতেই এই দিবসটির আয়োজন।

এ বছর বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— "Anaesthesiology Along the Patient Pathway" (রোগীর চিকিৎসা যাত্রাপথে অ্যানেস্থেসিওলজি বা অ্যানেস্থেসিয়া সেবার ভূমিকা)। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে, অ্যানেস্থেসিয়া কেবল অপারেশন থিয়েটারের (OT) ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগীর অস্ত্রোপচারের পূর্ব প্রস্তুতি থেকে শুরু করে অস্ত্রোপচার পরবর্তী নিবিড় যত্ন ও ব্যথা উপশম পর্যন্ত পুরো চিকিৎসাপথেই অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস ও পটভূমি:

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে ১৮৪৬ সালের ১৬ অক্টোবর একটি অবিস্মরণীয় দিন। এদিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে ডেন্টিস্ট উইলিয়াম টি. জি. মন্টন (William T.G. Morton) প্রথমবারের মতো সফলভাবে ইথার (Ether) ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীকে অজ্ঞান করে টিউমার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন। এই সফল প্রদর্শনী চিকিৎসাক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে, যার ফলে রোগীরা ব্যথাহীনভাবে অস্ত্রোপচার করার সুযোগ পান। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবস’ বা ‘ইথার দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।

অ্যানেস্থেসিয়ার বিস্তৃতি ও গুরুত্ব:

সাধারণ মানুষের ধারণা অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের কাজ শুধু রোগীকে অজ্ঞান বা অবশ করা। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, একজন অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ মূলত রোগীর জীবন রক্ষাকারী ও চিকিৎসাপথের সার্বক্ষণিক অভিভাবক। তাদের কাজের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত:

• অপারেশন পূর্ব মূল্যায়ন: অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা (হার্ট, ফুসফুস, কিডনি ইত্যাদি) পরীক্ষা করে রোগীকে অস্ত্রোপচারের উপযোগী করা।

• অপারেশন চলাকালীন পর্যবেক্ষণ: অপারেশন চলাকালীন রোগীর রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা।

• নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (ICU): গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস (Ventilation) ও নিবিড় যত্ন নিশ্চিত করা।

• ব্যথা ব্যবস্থাপনা: ক্রনিক বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এবং ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের পেইন ম্যানেজমেন্ট বা কষ্টদায়ক ব্যথা দূর করা।

• জরুরি ও ট্রমা সেবা: যেকোনো দুর্ঘটনা বা জরুরি মুহূর্তে রোগীর জীবন বাঁচাতে প্রাথমিক ক্রিটিক্যাল কেয়ার প্রদান করা।

বাংলাদেশে দিবসটি উদযাপন:

বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানাস্থেসিওলজিস্টস (BSA) এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক র‍্যালি, বৈজ্ঞানিক সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক এবং পোস্টার প্রদর্শনী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে দক্ষ অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় এখনও অনেক কম। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে নিরাপদ অ্যানেস্থেসিয়া ও উন্নত আইসিইউ সেবা পৌঁছে দিতে এই খাতে আরও বেশি দক্ষ জনবল তৈরি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। আজকের এই দিবসের মূল লক্ষ্যই হলো—অ্যানেস্থেসিয়া সেবার মানোন্নয়ন ও নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি রোগীর জীবন সুরক্ষিত করা।