...|...|...

লাইফস্টাইল

বিদ্যুৎ বিল কমাতে মেনে চলুন এই ১০ কৌশল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:২৭ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:২২
Shares
বিদ্যুৎ বিল কমাতে মেনে চলুন এই ১০ কৌশল

বিদ্যুৎ বিল কমাতে বদলান দৈনন্দিন অভ্যাস। ছবি: এআই জেনারেটেড

গরমের সময়ে ফ্যান, এসি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যায়। ফলে অন্যান্য সময়ের তুলনায় মাস শেষে বিদ্যুতের বিলও বাড়তে পারে। তবে বিদ্যুতের ব্যবহার একেবারে কমিয়ে না দিয়েও কিছু বিষয়ে সচেতন হলে অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

ঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রের সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের অভ্যাস পরিবর্তন- এই তিন বিষয়েই নজর দিলে বিল কমানোর সুযোগ তৈরি হয়। জেনে নিন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ১০টি কার্যকর উপায়।

১. কম বিদ্যুৎ খরচের যন্ত্র বেছে নিন

নতুন কোনো বৈদ্যুতিক পণ্য কেনার সময় শুধু দাম বা বাহ্যিক নকশা দেখলে হবে না, সেটি কতটা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী তাও বিবেচনা করতে হবে। সাধারণ বাতির পরিবর্তে LED ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে ফ্রিজ বা এসি কেনার ক্ষেত্রে ইনভার্টার প্রযুক্তির মডেল বেছে নিলে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ কমতে পারে।

২. মিটারের রিডিংয়ে নজর রাখুন

প্রতি মাসে কত ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন। হঠাৎ করে আগের তুলনায় ব্যবহার অনেক বেড়ে গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে মিটার পরীক্ষা করিয়ে নিন এবং কোনো ত্রুটি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।

৩. ব্যবহার শেষে প্লাগ খুলে রাখুন

টিভি, কম্পিউটার, চার্জারসহ অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্র বন্ধ করার পরও স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় সামান্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় কোনো ডিভাইস ব্যবহার না করলে শুধু সেটি বন্ধ না করে সম্ভব হলে সকেটের সুইচও বন্ধ করে দিন।

৪. এসির তাপমাত্রা খুব কমিয়ে দেবেন না

গরমে এসির ব্যবহার বাড়লেও সঠিকভাবে চালালে বিদ্যুতের অপচয় কিছুটা কমানো যায়। এসির তাপমাত্রা অতিরিক্ত কম না রেখে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার কাছাকাছি রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি ফিল্টার পরিষ্কার এবং নিয়মিত সার্ভিসিং করানো জরুরি। নোংরা ফিল্টার বা যান্ত্রিক সমস্যার কারণে এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হতে পারে।

৫. ঘরে আলো-বাতাস ঢোকার সুযোগ রাখুন

দিনের বেলায় সম্ভব হলে জানালা দিয়ে প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস ঘরে প্রবেশের ব্যবস্থা করুন। এতে দিনের একটি বড় সময় লাইট না জ্বালিয়েও চলা যায়। আবার ঘরে সরাসরি সূর্যের তাপ ঢোকা কমাতে পর্দা বা উপযুক্ত ছায়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে ঘর তুলনামূলক ঠান্ডা রাখতে সহায়তা মিলবে।

৬. ঘরের তাপ নিরোধের ব্যবস্থা করুন

ছাদ, দেয়াল বা মেঝের মাধ্যমে বাইরের তাপ ঘরে ঢুকতে পারে। এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত তাপ নিরোধক উপকরণ ব্যবহার করলে ঘরের ভেতরের তাপমাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল রাখা সম্ভব। ফোম, ফাইবারগ্লাস বা অন্যান্য উপযুক্ত ইনসুলেশন উপকরণ ভবনের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. ঘর ছাড়ার আগে সুইচ বন্ধ করুন

একটি ঘর থেকে বের হওয়ার সময় লাইট বা ফ্যান বন্ধ না করাটা ছোট ভুল মনে হলেও প্রতিদিন এমন হলে বিদ্যুতের অপচয় বাড়ে। তাই ঘর ছেড়ে বের হওয়ার আগে লাইট, ফ্যান ও প্রয়োজন নেই এমন অন্যান্য যন্ত্র বন্ধ করার অভ্যাস করুন।

৮. বাড়ির আশপাশে গাছ লাগান

বাড়ির চারপাশে গাছপালা থাকলে ছায়া তৈরি হয় এবং পরিবেশও তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক থাকে। বিশেষ করে বাড়ির আশপাশে উপযুক্ত জায়গায় গাছ লাগালে সরাসরি সূর্যের তাপ কমানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। ফলে ঘর ঠান্ডা রাখতে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

৯. বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়মিত সার্ভিসিং করুন

ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রে সময়ের সাথে ধুলা, ময়লা বা যান্ত্রিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে গিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করা উচিত।

১০. সম্ভব হলে সৌরবিদ্যুতের কথা ভাবুন

দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের খরচ কমানোর বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। বাড়ির ছাদ বা উপযুক্ত স্থানে সোলার প্যানেল বসিয়ে সৌরশক্তি কাজে লাগানো সম্ভব। শুরুতে বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। পাশাপাশি এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানির একটি উৎস।

বিদ্যুৎ বিল কমানোর জন্য সবগুলো ব্যবস্থা একসাথে নেওয়া জরুরি নয়। দৈনন্দিন ব্যবহারে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় বন্ধ করার পাশাপাশি ধীরে ধীরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্র ও প্রযুক্তির দিকে গেলে মাসিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।