...|...|...

বিশ্ব

বাবার জানাজাতেও নেই মোজতবা খামেনি: কোথায় তিনি?

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬, ভোর রাত ৪:২৮ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:৪৪
Shares
বাবার জানাজাতেও নেই মোজতবা খামেনি: কোথায় তিনি?

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পুত্র এবং সম্ভাব্য উত্তরসূরি মোজতবা খামেনি দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন। সম্প্রতি ইরানে শুরু হওয়া আয়াতুল্লাহ খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানেও তার অনুপস্থিতি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কৌতুহল ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে। বাবার শেষযাত্রায় তার মতো একজন শীর্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের না থাকাটা ইরানের বর্তমান সংবেদনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও বেশি ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানি কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, মূলত চরম নিরাপত্তাজনিত হুমকি এবং ইসরায়েলের সম্ভাব্য গুপ্তহত্যার আশঙ্কার কারণেই মোজতবা খামেনি এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকছেন। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানকে লক্ষ্য করে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি যৌথ বিমান হামলার পর থেকেই তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ভয়াবহ বিমান হামলায় তিনি নিজেও গুরুতর আহত হয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, ওই একই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং তার পরিবারের আরও চার সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে মোজতবা খামেনির স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতি এবং মাত্র ১৪ মাস বয়সী এক ভাতিজিও ছিলেন। পরিবারের এত বড় বিপর্যয় এবং বাবার মৃত্যুর পরও মোজতবার জনসমক্ষে না আসা এটাই ইঙ্গিত করে যে, তার জীবন এই মুহূর্তে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।

দীর্ঘদিন শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সাহায্যে মোজতবা খামেনির নামে বেশ কয়েকটি লিখিত বিবৃতি বা বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৮ জুনের এক বার্তায় তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক তিনি অনুমোদন করেছেন। দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতেই জনগণের অধিকার রক্ষায় তিনি এটি অনুমোদন করেন বলে দাবি করেন। পরবর্তীতে ২৮ জুন আরেকটি লিখিত বার্তায় তিনি তার বাবার হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং এই হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের এই ক্রান্তিলগ্নে মোজতবা খামেনির নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে তেহরান। যুদ্ধ-পরবর্তী এই ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে তাকে লক্ষ্য করে নতুন কোনো হামলা হতে পারে- এমন আশঙ্কায় ভুগছে ইরানি প্রশাসন। তবে তিনি বর্তমানে ঠিক কোথায় আছেন বা তার শারীরিক অবস্থা কেমন, সে বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও সুনির্দিষ্ট কিছু জানানো হয়নি।