...|...|...

বরিশাল

তালতলীতে লোহার সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৪৬ | আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৪৭
Shares
তালতলীতে লোহার সেতু ধসে বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার বড়বগী ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের দীর্ঘদিন ধরে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বগীরদোনা খালের ওপর নির্মিত পুরোনো লোহার সেতুটি অবশেষে ভেঙে পড়েছে। সেতুটি ধসে পড়ায় তালুকদার পাড়া ও বড়াইতলা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে মৌরভী, পাওয়া পাড়াসহ আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেতুটি গত কয়েক বছর ধরেই অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। সেতুর বিভিন্ন স্থানের লোহার প্লেট ও অ্যাঙ্গেল মরিচা ধরে খসে পড়েছিল। হঠাৎ করে সেতুটির মূল অংশ ভেঙে পড়ে চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সৌভাগ্যবশত, সে সময় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সেতু ভেঙে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী। কোনো বিকল্প সড়ক বা সেতু না থাকায় ছোট ডিঙি নৌকায় করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন খাল পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, সেতুটি বছরের পর বছর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ কর্ণপাত করেনি। এখন এটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ছোট বাচ্চাদের ডিঙি নৌকায় স্কুলে পাঠিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় আমাদের, যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

শিক্ষার্থী আমেনা আক্তারও তাদের প্রতিদিনের ঝুঁকিপূর্ণ পারাপারের কষ্টের কথা জানান।

তালুকদার পাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু তাহের জানান, প্রতিদিন ডিঙি নৌকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হওয়ার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে পারছে না। এর ফলে ক্লাসে উপস্থিতির হার যেমন কমছে, তেমনি তাদের স্বাভাবিক পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে জরুরিভিত্তিতে একটি কাঠের পুল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে পারাপারের বিকল্প ব্যবস্থা দৃশ্যমান হবে।

তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ওই স্থানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।