...|...|...

ময়মনসিংহ

জরাজীর্ণ ভবন ও ওষুধ সংকটে চলছে ফুলপুরের কমিউনিটি ক্লিনিক

সুমিত সরকার উদয়, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:১০ | আপডেট: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:১৫
Shares
জরাজীর্ণ ভবন ও ওষুধ সংকটে চলছে ফুলপুরের কমিউনিটি ক্লিনিক

ময়মনসিংহের ফুলপুরে নানা সংকট ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে চলছে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম। অধিকাংশ ক্লিনিকের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। কোথাও ছাদ ও দেয়ালে ফাটল, কোথাও ভবনের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়ছে। আবার কোনো কোনো ক্লিনিকে যাতায়াতের উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ফুলপুর উপজেলায় মোট ৩৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক থেকে গ্রামের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্লিনিকে নিয়মিত সেবা পাওয়া যায় না। দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের ইচ্ছামতো ক্লিনিক খোলেন ও বন্ধ করেন। ফলে সেবা নিতে এসে অনেকেই ফিরে যান। আবার ক্লিনিকে গেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অনেকেই জানেন না, কমিউনিটি ক্লিনিকের মূল কার্যক্রম কী এবং সেখানে কী ধরনের সেবা পাওয়ার কথা। ফলে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটা নামমাত্র কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলপুর সদর ইউনিয়নের ঠাকুরবাখাই কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের ভেতরে কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ায় বাইরে বসেই সেবা দিতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবাগ্রহীতা উভয়েই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

অন্যদিকে, বালিয়া ইউনিয়নের মইশাউন্দা গ্রামের কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটিও জরাজীর্ণ। ভবনের পাশাপাশি সেখানে রয়েছে যাতায়াতের সমস্যা। ক্লিনিকে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় স্থানীয়দের সেবা নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঠাকুরবাখাই কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার মাহফুজা রহমান নেন্সি বলেন,ভবন সংকট ও পর্যাপ্ত ওষুধ না পাওয়ায় জনগণের চাহিদা মত সেবা দেওয়া যাচ্ছেনা।

এ বিষয়ে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী বলেন, অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে।দায়িত্বরতদের বেতন-ভাতা আমাদের হাতে নেই। তারা অবহেলা করলেও তেমন কিছু করার থাকে না। তবে সমন্বয়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি

স্থানীয়দের দাবি, জরাজীর্ণ ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ, নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহির আওতায় আনা হলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।