রাজবাড়ী শহরের আদালত প্রাঙ্গণ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রেলগেট, আজাদী ময়দান কিংবা বড়পুল এলাকা- দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে এসব এলাকায় ঘুরে বেড়ানো এক রহস্যময় নারীকে ঘিরে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। মাথা থেকে পা পর্যন্ত কালো বোরকায় আবৃত এই নারীর পরিচয় আজও অজানা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ বছর ধরে তাকে আদালত প্রাঙ্গণ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। দিনের বেশিরভাগ সময় তিনি আদালত ও প্রশাসনিক এলাকার আশপাশে অবস্থান করলেও রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করেন।
রাজবাড়ী আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আজিজ জানান, নারিটিকে প্রায় ৪-৫ বছর ধরে আদালতের আশপাশে দেখা যাচ্ছে। রাতে রেলগেট, আজাদী ময়দান ও বড়পুল এলাকাতেও তাকে দেখা যায়। তবে বেশিরভাগ সময় আদালত প্রাঙ্গণ ও ডিসি অফিসের আশপাশেই থাকেন। কেউ কথা বলতে চাইলে সাধারণত কথা বলেন না। নিজের মতো একাই চলাফেরা করেন।
আদালতের এক মহুরী বলেন, তার কাছে বাড়ি কোথায় জানতে চাইলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন। কখনো বলেন, ‘তোমার কাজ কী?’ আবার কখনো বলেন, ‘আপনি কি গোয়েন্দার লোক?’ সবসময় বোরকা ও মোজা পরে আদালত প্রাঙ্গণের আশপাশে ঘোরাফেরা করেন। তার সঙ্গে দুই-তিনটি ব্যাগও থাকে।
এদিকে আরেক আইনজীবী জানান, দীর্ঘ তিন বছর ধরে তিনি ওই নারীকে দেখে আসছেন। তার ভাষায়, তার হাতে প্রায়ই একটি মোবাইল ফোনের মতো জিনিস দেখা যায়। কিন্তু সেটি আসলে মোবাইল নয়, মোবাইলের একটি কভার। তাকে প্রায়ই একা একা কথা বলতে দেখা যায়। কী বলেন বা কার সঙ্গে কথা বলেন তা বোঝা যায় না। তার সঙ্গে থাকা ব্যাগগুলো নিয়েও মানুষের কৌতূহল রয়েছে। তবে ব্যাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ভয় পান এবং দূরে সরে যান।
আদালত প্রাঙ্গণের পান বিক্রেতা মজিবর মিয়া বলেন, নারিটি প্রায়ই আমার দোকানে আসেন। তিনটি ব্যাগ নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর একটি পান চান। পান নিয়ে আবার নিজের মতো চলে যান।
তবে রহস্যময় এই নারীর পরিচয়, ঠিকানা কিংবা পারিবারিক তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি কোথা থেকে এসেছেন, কোথায় থাকেন কিংবা কেন বছরের পর বছর একইভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা।


