...|...|...

সারাদেশ

ফরিদপুর মেডিকেলে ট্রলির টাকা না দেওয়ায় মিলল না সেবা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:১৩
Shares
ফরিদপুর মেডিকেলে ট্রলির টাকা না দেওয়ায় মিলল না সেবা

এক হাতে অক্সিজেনের মাস্ক, অন্য হাতে স্যালাইন। কোলে চার বছরের অসুস্থ শিশু। পাশে অক্সিজেন সিলিন্ডার। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দিকে ছুটছেন স্বজনরা। কিন্তু জরুরি মুহূর্তেও যেন শেষ হচ্ছে না তাদের দৌড়।

অভিযোগ উঠেছে, শিশুটিকে দ্রুত জরুরি বিভাগে নেওয়ার জন্য ট্রলি প্রয়োজন হলেও সেখানে ট্রলির জন্য টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় সময়মতো ট্রলি পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে স্বজনরাই অক্সিজেন ও স্যালাইনসহ শিশুটিকে কোলে নিয়ে জরুরি বিভাগের দিকে ছুটতে থাকেন। এর কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় শিশুটির।

ঘটনাটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মৃত শিশুর নাম রুহুল আমিন। তার বয়স চার বছর। সে ফরিদপুর সদর উপজেলার পুরদিয়া গ্রামের মাফুজুরের ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রুহুল আমিনকে হাসপাতালে আনা হয়। দ্রুত চিকিৎসার জন্য জরুরি বিভাগে নেওয়া প্রয়োজন ছিল তাকে। কিন্তু ট্রলি চাইলে টাকা দাবি করা হয়। সেই টাকা দিতে না পারায় ট্রলি না পেয়ে শিশুটিকে কোলে নিয়েই স্বজনদের জরুরি বিভাগের দিকে যেতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে একজনকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। শিশুটির মুখে অক্সিজেন মাস্ক। পাশে থাকা আরেকজন বহন করছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং অন্য একজনের হাতে রয়েছে স্যালাইন। ভিডিওতে হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও শোনা যায়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে শিশু রুহুল আমিন (৫) তার বাড়ির পাশের রাস্তার ওপর খেলা করছিল। এ সময় একটি বেপরোয়া ভ্যান তার পেটের ওপর দিয়ে চলে যায়। রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে তাকে প্রথমে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়।

সেখানে চিকিৎসকরা প্লাস্টার শেষে তাকে শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার পরমর্শ দেন। তবে আসল ভোগান্তি শুরু হয় এর পরেই। শিশুর পরিবার অভিযোগ করেন, ট্রমার পর শিশুকে পাঁচ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে নেওয়ার জন্য ট্রলি খোঁজাখুঁজি শুরু করলে সেখানকার একজন ওয়ার্ড বয় এবং 'আশা' নামের বিনা বেতনের একজন স্বেচ্ছাসেবী মেয়ে ট্রলি পেতে ২০০ টাকা দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, টাকা দিতে না পারায় বাধ্য হয়ে স্বজনরা নিজেদের শক্তিতেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে এবং হাতে অক্সিজেনের বোতল ধরে পাঁচ তলার সার্জারি ওয়ার্ডে হেঁটে নিয়ে যান।

​সার্জারি ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে নিয়তির চরম নির্মমতায় ঢাকায় নেওয়ার পথেই না ফেরার দেশে চলে যায় শিশু রুহুল।

এ ঘটনার বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের ডা. হুমায়ুন কবির এর সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।