...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হচ্ছে থ্রিডি নকশার বিস্কুট, যাবে মহাকাশেও

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:২৩ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৩২
Shares
প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হচ্ছে থ্রিডি নকশার বিস্কুট, যাবে মহাকাশেও

প্লাস্টিক দিয়েই তৈরি হচ্ছে বিস্কুট। ছবি : সংগৃহীত

প্লাস্টিক বর্জ্য ও কৃষিজ বর্জ্যকে খাদ্য উপাদানে রূপান্তর করে বিস্কুটজাতীয় খাবার তৈরির প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন একদল গবেষক। নাসার অর্থায়নে পরিচালিত এই প্রকল্পে বিশেষভাবে পরিবর্তিত ইস্ট ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে প্রোটিন, ফ্যাট ও ফ্লেভার তৈরি করা হচ্ছে।

পরে এসব উপাদান থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে বিস্কুটের আকৃতি দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে নভোচারীদের খাদ্যের চাহিদা মেটাতে প্রযুক্তিটি ব্যবহারের লক্ষ্য রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান গবেষকদের এই উদ্ভাবন নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাসার ‘ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় এ গবেষণা চলছে। দীর্ঘ সময়ের মহাকাশ অভিযানে সাথে করে বিপুল পরিমাণ খাবার নেওয়ার পরিবর্তে বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে খাদ্য তৈরির সম্ভাবনা খুঁজতেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের অণুজীববিজ্ঞানী ড. লাহিরু জয়কোডি। তার গবেষণাগার মূলত প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করে। প্লাস্টিক ও খাবার—দুটিই কার্বনভিত্তিক হওয়ায় প্লাস্টিকের কার্বনকে খাদ্য উপাদানে পরিণত করার ধারণা থেকেই এই গবেষণার শুরু।

গবেষণায় পানির বোতল তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত পলিইথিলিন টেরিফথ্যালেট বা পিইটি প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথমে পানি ও অক্সিজেনের সহায়তায় উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপে পিইটি ভেঙে ছোট ছোট কার্বনসমৃদ্ধ অণুতে পরিণত করা হয়। এরপর জিনগতভাবে পরিবর্তিত ইস্ট এসব কার্বন গ্রহণ করে প্রোটিন ও ফ্যাটের মতো পুষ্টি উপাদান তৈরি করে।

পরবর্তী ধাপে এসব উপাদান স্টার্চের সাথে মিশিয়ে থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে বিস্কুটের আকৃতি দেওয়া হয়। শুধু প্লাস্টিক নয়, উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকেও আলাদা একটি ইস্টের স্ট্রেইন ব্যবহার করে ভ্যানিলা ফ্লেভার তৈরির পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

তবে এই বিস্কুট এখনো মানুষের খাওয়ার জন্য অনুমোদিত নয়। প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন না থাকায় গবেষকরা নিজেরাও এর স্বাদ পরীক্ষা করেননি। তবে ঘ্রাণ পরীক্ষায় খাবারটি ইতিবাচক ফল পেয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।

মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা বেশ বড়। মঙ্গল গ্রহের মতো দূরবর্তী গন্তব্যে মানুষের অভিযান পরিচালিত হলে যাত্রা ও অবস্থান মিলিয়ে প্রায় তিন বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এত দীর্ঘ অভিযানে প্রতিটি সম্পদ ও বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। সেই বিবেচনায় প্লাস্টিক বর্জ্যকে খাদ্য তৈরির কাঁচামালে পরিণত করা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে পারে।

বর্তমানে অবশ্য এই প্রযুক্তি বেশ ব্যয়বহুল। এক কেজি বিস্কুট তৈরিতে প্রায় ৬০ ডলার খরচ হচ্ছে। তবে ইস্টের কার্যক্ষমতা বাড়ানো এবং বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন করা সম্ভব হলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, প্রযুক্তিটির ব্যবহার শুধু মহাকাশেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। সাবমেরিন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকা কিংবা অন্যান্য চরম পরিস্থিতিতেও এটি কাজে লাগতে পারে। একই সাথে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং ভবিষ্যতের খাদ্যসংকট মোকাবিলায়ও প্রযুক্তিটি সম্ভাবনাময়।

গবেষকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে খাদ্যের চাহিদা ৩৫ থেকে ৫৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সময়ে বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ খাদ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ফলে বর্জ্য থেকে খাদ্য উপাদান তৈরির মতো প্রযুক্তি ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

তবে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা ও খাদ্যমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্লাস্টিক থেকে তৈরি খাবার গ্রহণের বিষয়ে মানুষের মানসিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।