বিয়ে আল্লাহর বিধান। একজন পুরুষ বিয়ের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ভালোবাসা ও দয়া তৈরি হয়।ইসলাম একজন পুরুষকে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে সর্বোচ্চ চারটি বিয়ে করার অনুমতি দিয়েছে। কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের কাছে নারীদের মধ্যে যারা ভালো লাগে, তাদের মধ্য থেকে দুই, তিন অথবা চারজনকে বিয়ে করো। কিন্তু যদি আশঙ্কা কর যে, ন্যায়বিচার করতে পারবে না,তবে একজনই যথেষ্ট।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ৩)
কুরআনের এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে, ইসলাম বহুবিবাহের অনুমতি দিলেও, কোনো পুরুষ দুই বা ততোধিক স্ত্রীর অধিকার ন্যায়সঙ্গতভাবে পালন করতে অক্ষম হয়, তাহলে ‘একজনকেই বিবাহ করার’ নির্দেশকে বিশেষভাবে পালন করতে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে ইসলামী আইনশাস্ত্রের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ (ইজতিহাদ বা স্বাধীন আইনগত ব্যাখ্যার মাধ্যমে) মত দিয়েছেন যে, অধিকাংশ পরিস্থিতিতে একজন পুরুষের জন্য একাধিক বিবাহ থেকে বিরত থাকাই উত্তম।
দ্বিতীয় বিয়েতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি কি নিতে হবে?
কুরআনের বাণী, রাসুলের জীবন এবং সাহাবায়ে কেরামের আছার থেকে একাধিক বিয়ের কথা ইসলামে বৈধ প্রমানিত। এখন প্রশ্ন জাগে যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা কি বৈধ? ইসলাম কি বলে? আমাদের দেশের আইন কি বলে? ২য় বিয়ে করার সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে কি না? এমনই একটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়ে প্রসিদ্ধ ইসলামিক স্কলার শায়খ মিজানুর রহমান আজহারীকে প্রশ্ন করা হয়েছে যে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া লাগবে কিনা?
প্রশ্নের জবাবে শায়খ আজহারী বলেন, শারিয়তের দৃষ্টিতে স্বামীর দ্বিতীয় করতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া লাগবে না। তবে আমাদের সরকারি আইনে দ্বিতীয় বিয়ে করতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেওয়া লাগবে। কারন বিয়ে করার সময় নিকাহনামাতে স্বাক্ষর করতে হয়। সেখানে আবশ্যিকভাবে লেখা আছে যে, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ব্যতিত দ্বিতীয় স্ত্রী গ্রহণ করা যাবে না। আর কথা মেনে নিয়েই আপনাকে বর হিসেবে নিচে স্বাক্ষর করতে হয়। সুতরাং আপানি এ শর্তটি মেনে নিয়েছেন। তাই বিবাহটি একটি শর্তের সাথে হয়েছে। তাই এই শর্তটি আপনাকে পরিপূর্ণ করতে হবে। যদি শর্তটি পরিপূর্ণ না করেন, তাহলে আইনি লড়াইয়ে গেলে, আপনাকে আইন মোকাবেলা করতে হবে। কিন্তু শরিয়তের দৃষ্টিকোণ এটি না। আপনি ২য় বিয়ে করতে পারেন। তবে প্রথম স্ত্রীর সাথে আলোচনা করে নেওয়াই ভালো।
সমান অধিকার নিশ্চিত করা
স্ত্রীদের মধ্যে রাত যাপন, ভরণপোষণ এবং ভালোবাসার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখতে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"যার দুজন স্ত্রী আছে এবং সে তাদের একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়ে (অর্থাৎ সমতা বজায় রাখে না), তবে কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় আসবে যে তার শরীরের এক পাশ অবশ বা বাঁকা থাকবে।" (সুনান আত-তিরমিজি, হাদিস: ১১৪১)
রাসুল (সাঃ) বলেন, মুমিনদের মধ্যে ইমানে সে ব্যক্তি পরিপূর্ণ, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর। আপনাদের মধ্যে উত্তম হলো তারা, যারা স্ত্রীদের কাছে উত্তম। (তিরমিজি)

