ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা থেকে ‘প্রায় সরে এসেছে’ বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, তেহরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন প্রশাসনের অন্যতম প্রধান একটি লক্ষ্য এখন অর্জিত হচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ওহাইওতে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ট্রাম্প এই দাবি করেন।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের যেকোনো পরিকল্পনা থেকে প্রায় পুরোপুরি সরে এসেছে। ইরানকে নিয়ে আমার একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরান এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই একমাত্র প্রশ্ন হলো—এটি সহজ উপায়ে হবে নাকি কঠিন উপায়ে। আমরা বিষয়টি সহজভাবে সমাধান করব নাকি কঠিনভাবে, সেটাই দেখার বিষয়।
ইরানের পারমাণবিক ছাড় প্রদানে অস্বীকৃতি
গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা এবং এর সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই আট মাসব্যাপী সংঘাত এখনও সমাধান হয়নি।
আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। লড়াই বন্ধ করতে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরান বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রস্তাব দিলেও ট্রাম্প তেহরানের সর্বশেষ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে তেহরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র চায় না এবং আন্তর্জাতিক তদারকির অধীনে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমিয়ে আনতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
একই সাথে তেহরান তাদের বেসামরিক পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কঠোর সীমারেখা টেনে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, ওয়াশিংটন যতক্ষণ পর্যন্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে না নিচ্ছে, ততক্ষণ তারা তাদের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করবে না কিংবা কোনো ধরনের কাঠামোগত ছাড় দেবে না।


