...|...|...

বিশ্ব

বাংলাদেশসহ ৩ দেশ থেকে আবেদনের হিড়িক

ব্রিটিশ বারে বিদেশি আইনজীবীদের আবেদনের সুযোগ বন্ধ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৪৮
Shares
ব্রিটিশ বারে বিদেশি আইনজীবীদের আবেদনের সুযোগ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আইনজীবীদের আবেদন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের আইনি পেশায় বিদেশি আইনজীবীদের আবেদন করার সুযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের ব্যারিস্টার পেশার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘বার স্ট্যান্ডার্ডস বোর্ড’—সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবেদন জট বা ব্যাকলগ কমাতে তাদের ‘ট্রান্সফারিং কোয়ালিফাইড লয়ার’ বা যোগ্য আইনজীবী স্থানান্তর প্রকল্পের কাজ স্থগিত করেছে।

এই স্থগিতাদেশের ফলে এখন থেকে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যোগ্যতা অর্জন করতে ইচ্ছুক বিদেশি আইনজীবীরা নতুন কোনো আবেদন করতে পারবেন না, যদি না তারা ব্রিটেনের কোনো অনুমোদিত ব্যারিস্টার চেম্বারে কাজের অফার বা পদ আগেই নিশ্চিত করে থাকেন।

আবেদন বাড়ার পেছনের কারণ ও জট

ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের আইনজীবীদের কাছ থেকে হঠাৎ করেই আবেদন বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমানে এই তিন দেশের আবেদনকারীরাই মোট টিকিউএল অনুরোধের অর্ধেকেরও বেশি জুড়ে রয়েছেন।

অন্যান্য দেশের যোগ্য আইনজীবীদের ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যারিস্টার হিসেবে পুনরায় যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ করে দেয় এই টিকিউএল স্কিম। গত তিন বছরে এই স্কিমের আবেদন প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে যেখানে আবেদন ছিল ৩২৫টি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৪টিতে।

এর ফলে, আবেদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছে। বিএসবি জানিয়েছে, বিদেশি প্রার্থীরা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বা চ্যালেঞ্জ করার প্রবণতা বেশি রাখায় এই জটিলতা আরও বেড়ে গেছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি এই আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে যে, টিকিউএল-এর জন্য আবেদনকারী অনেকেরই যুক্তরাজ্যে বাস্তবে ব্যারিস্টার হিসেবে কাজ করার কোনো ইচ্ছাই থাকে না, বরং তারা নিজ দেশেই কাজ চালিয়ে যান।

বিএসবির মহাপরিচালক ফিল গোল্ডিং বলেছেন, আমাদের প্রক্রিয়া এবং নিয়মের কিছু পরিবর্তন আনা দরকার, যাতে সিস্টেমটি মূলত তাদের ওপর ফোকাস করতে পারে যারা আসলে এই বিচারব্যবক্ষায় প্র্যাকটিস করবেন। এটি সিস্টেমে থাকা বিশাল জট কমাতে সাহায্য করবে।

পরীক্ষায় অসদুপায় ও অন্যান্য কড়াকড়ি

এই আমূল সংস্কারের আগে ব্রিটিশ আইনি পরীক্ষায় বিদেশি প্রার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে কিছু প্রার্থী পরীক্ষার জন্য অন্য ব্যারিস্টারদের ভাড়া করে পরীক্ষা দেওয়াতেন।

এই অনিয়মের আশঙ্কায় ২০২৩ সালে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রার্থীদের অনলাইন পরীক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ করেছিল। এরপর স্পষ্ট জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় পরের বছর সব ধরনের অনলাইন পরীক্ষাও স্থগিত করে দেয় বিএসবি। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে এখন থেকে সব বিদেশি প্রার্থীকে অবশ্যই নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত পরীক্ষার হলে সশরীরে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষা দিতে হবে।

নিয়র্ক সংস্থা জানিয়েছে, কেন হঠাৎ করে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে আবেদনকারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে, বিশেষ করে যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে প্র্যাকটিসই করেন না, বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কিছু আইন শিক্ষালয় দ্বৈত যোগ্যতার বিষয়টি এমনভাবে প্রচার করে থাকে, যা একজন আইনজীবীর সিভি বা জীবনবৃত্তান্তের মান বাড়াতে সাহায্য করে, যদিও তারা শুধু নিজ দেশেই প্র্যাকটিস করে থাকেন।

উল্লেখ্য, বার কাউন্সিল ব্রিটিশ চেম্বারগুলোতে যাদের শিক্ষানবিসি বা নির্দিষ্ট পদ রয়েছে, কেবল সেইসব বিদেশি ব্যারিস্টারদের জন্যই ভিসা স্পন্সর করে থাকে।