মাত্র পাঁচ মাস বয়স আফরিন রুমির। জন্মের পর থেকেই তার শরীরের বিভিন্ন অংশ স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করে না। ঠিকমতো মাথা নাড়াতে পারে না শিশুটি। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, আফরিনের মাথায় পানি জমেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচার দরকার।
কিন্তু মেয়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করার সামর্থ্য নেই মা ফাতেমা বেগমের। অসুস্থ শিশুকে কোলে নিয়ে তাই এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। কারও কাছে সহায়তা চাচ্ছেন, কারও কাছে মেয়ের চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা দেওয়ার অনুরোধ করছেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তা খুবই কম।
আফরিনের বাড়ি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমুখ ইউনিয়নের গাঁথাছড়া গ্রামে। তার মা ফাতেমা বেগমের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক সংকটে রয়েছে। আফরিনের নানা তারা মিয়া জীবিত থাকাকালে ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। তিনিও মারা গেছেন। ফলে মেয়েকে নিয়ে ফাতেমার পাশে দাঁড়ানোর মতো আর্থিকভাবে সক্ষম কেউ নেই।
ফাতেমা বেগম বলেন, আমার বাবা ভিক্ষা করতেন। তিনি মারা গেছেন। এখন আমার মা-বাবা কেউ নেই। নিজের থাকার মতো একটি জায়গা ছাড়া আমার তেমন কিছুই নেই। মেয়ের চিকিৎসার জন্য যে টাকা প্রয়োজন, তা আমার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, ‘মেয়েটা জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। তাকে কোলে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় চিকিৎসার জন্য ঘুরছি। চিকিৎসকেরা বলেছেন, তার মাথায় পানি জমেছে। চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু টাকা কোথায় পাব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আফরিনের জন্মের পর থেকেই তার শারীরিক সমস্যাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বয়স বাড়লেও অন্য শিশুদের মতো স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে পারছে না সে। চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করা হলেও অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পারিবারিক নানা সংকটের মধ্যেও মেয়েকে বাঁচানোর আশায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফাতেমা। স্বামীর বাড়ি থেকে ফিরে বর্তমানে বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। অসুস্থ শিশুকে নিয়ে সেখানে অনেকটা অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শিশুটির অবস্থা দেখে আমাদের খুব কষ্ট হয়। এত ছোট একটা শিশু জন্মের পর থেকেই অসুস্থ। তার মা নিজেও অসহায়। মেয়ের চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছে সাহায্য চাইছেন। কিন্তু একার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।
আরেক বাসিন্দা বলেন, এলাকার সবাই মিলে সহযোগিতা করলে শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হবে। সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এলে পরিবারটি উপকৃত হবে।
মাইনীমুখ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন কমল বলেন, আফরিনকে নিয়ে তার পরিবার আমাদের কাছে এসেছে। শিশুটির অসুস্থতার বিষয়টি আমরা জানি। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে। তবে শিশুটির চিকিৎসার জন্য আরও সহযোগিতা প্রয়োজন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চিকিৎসার অভাবে কোনো শিশুর জীবন যেন ঝুঁকিতে না পড়ে। আফরিনের ক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই পাশে দাঁড়ালে শিশুটির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।
পাঁচ মাসের আফরিন এখন মায়ের কোলে শুয়ে থাকে। বয়স অনুযায়ী তার হাসি-খেলায় মেতে ওঠার কথা। কিন্তু অসুস্থতার কারণে তার দিন কাটছে চিকিৎসার অপেক্ষায়। আর মেয়েকে বাঁচানোর আশায় অসহায় মা ফাতেমা ছুটছেন মানুষের কাছে।
আফরিনের চিকিৎসায় সহায়তা করতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।


