বরগুনার আমতলীতে পারিবারিক কলহের জেরে সুপ্রিয়া রানী নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী অজয় চন্দ্র হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সুপ্রিয়া রানী আমতলীর কুকুয়া ইউনিয়নের অজয় চন্দ্র হাওলাদারের স্ত্রী। ঘটনার পর নিহতের লাশ হাসপাতালে রেখেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিহতের মা দেপালী রানী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে জামাই অজয় চন্দ্র হাওলাদার তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে পরকীয়ায় আসক্ত ছিল। এর প্রতিবাদ করায় আমার মেয়েকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি প্রধান আসামিসহ এই ঘটনায় জড়িত সবার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।
নিহত সুপ্রিয়ার মেয়ে মিথিলা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, ‘আমার বাবা আমার মাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার চাই।’
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হাসান জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুপ্রিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন, তবে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
আমতলী থানার ওসি ইয়াকুব হোসাইন জানান, এ ঘটনায় নিহতের মা দেপালী রানী বাদী হয়ে মেয়ের জামাই অজয় চন্দ্র হাওলাদারকে প্রধান আসামি করে মোট ৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা দায়েরের পর রমা রানী নামের একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে প্রধান অভিযুক্ত অজয় হালদার ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


