নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির প্রাণকেন্দ্রে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র ডাকা ‘চলো দিল্লি-মার্চ ফর ডেমোক্র্যাসি’ কর্মসূচিতে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে প্রতিবাদ পদযাত্রায় অংশ নেন।
সোমবার দুপুরে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব থেকে একটি বাসে চেপে যাত্রা শুরু করেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খড়্গেসহ বিরোধী নেতারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন নেহাও। বারাখম্বার কাছে বাস থেকে নেমে তারা সাধারণ মানুষের ভিড়ের সঙ্গে পায়ে হেঁটে এগোতে থাকেন। কনট প্লেস ও মান্ডি হাউসের মধ্যবর্তী সড়কে সাধারণ মানুষ ও বিক্ষোভকারীদের ঢল নামে।
বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, তারা ইতিমধ্যে ভারতের প্রধান বিচারপতির (সিজেআই) সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে একটি আনুষ্ঠানিক পিটিশন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
কংগ্রেস সদর দফতরে সংবাদ সম্মেলনে লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, নির্বাচন কমিশনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন, সংবিধান সুরক্ষা ও নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই চলবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের উচিত পদত্যাগ করে অপরাধ স্বীকার করা এবং রাজসাক্ষী হওয়া। তার দাবি, ভুল হয়ে থাকলেও এর পেছনের মূল মগজ জ্ঞানেশ কুমার নন।
রাহুল আরও দাবি করেন, এসব অভিযোগের কারণে জ্ঞানেশ কুমার চরম চাপের মধ্যে রয়েছেন এবং রাতে ঘুমাতে পারছেন না। সরাসরি তাকে উদ্দেশ করে রাহুল বলেন, সিইসি হিসেবে তিনি আর টিকে থাকতে পারবেন না।
রাহুল গান্ধীর ডাকা এই পদযাত্রাকে ঘিরে সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো দিল্লিতে হাজার হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ধাতব ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


