...|...|...

অর্থনীতি

নভেম্বর থেকে পকেটেই ব্যাংক!

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০৮ | আপডেট: ১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৪৩
Shares
নভেম্বর থেকে পকেটেই ব্যাংক!

বাংলা কিউআরে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির লেনদেন। ছবি: সংগৃহীত

ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি আরও প্রসারিত করতে এবং সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এর আওতায় আনতে আগামী নভেম্বর মাস থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে অর্থাৎ পিটুপি (P2P) লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে যেকোনো ব্যবহারকারী নিজস্ব কিউআর কোড ব্যবহার করে খুব সহজেই ডিজিটাল মাধ্যমে অপরকে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) বাংলা কিউআরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি পরিশোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ওয়ান ব্যাংক পিএলসি ও ইউআইইউ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের কাজ চারটি ধাপে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এর প্রথম ধাপে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে সবার জন্য বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ব্যবস্থাটির কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত এই প্ল্যাটফর্ম যাতে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লেনদেন পরিচালনা করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরীক্ষা চালানো হয়।

মোস্তাকুর রহমান জানান, দেশের ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশে (এনপিএসবি) প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ ৩০০টি লেনদেন পরিচালনার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, মাস্টারকার্ডের ব্যবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ এক হাজারটি লেনদেন পরিচালনা করা সম্ভব।

প্রায় ১০০টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মের সাথে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। গভর্নর বলেন, বাংলা কিউআর সবার জন্য বাধ্যতামূলক করার পর এর কার্যক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখা গেছে।

গত ১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই ব্যবস্থায় লেনদেনের মাশুল শূন্যে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে দুই হাজার টাকা থেকে শুরু করে পাঁচ হাজার, এক লাখ কিংবা দুই লাখ টাকা—যেকোনো অঙ্কের লেনদেনই বিনা মাশুলে করা যাবে বলে জানান গভর্নর।

তিনি বলেন, আগামী নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর বাস্তবায়নের চতুর্থ ধাপ শুরু হবে। এ পর্যায়ে একজন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে পারবেন।

বাংলা কিউআরের ব্যবহার বাড়ার চিত্র তুলে ধরে গভর্নর জানান, গত জুনের প্রথম সপ্তাহে এই ব্যবস্থায় দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩৭ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ১৮০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এ সময়ে দৈনিক লেনদেন চার গুণেরও বেশি বেড়েছে।

তবে এই অগ্রগতিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন মোস্তাকুর রহমান। বাংলা কিউআরকে আরও কার্যকর পর্যায়ে নিতে দৈনিক প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লেনদেন প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বাংলা কিউআর নিয়ে দেশের বাইরেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন গভর্নর। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে আলোচনায় গুগল, মেটা ও হুয়াওয়ের প্রতিনিধিরা এই ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বাংলা কিউআরের সম্প্রসারণের ফলে সহজে ও বিনা মাশুলে ডিজিটাল লেনদেনের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সাথে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার করা এবং নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতেও এই ব্যবস্থা ভূমিকা রাখতে পারে।