...|...|...

অর্থনীতি

নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন রবিবার, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৯ | আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০৬
Shares
নতুন কাঠামোয় বাড়তি বেতন রবিবার, অনেকের বেতন নির্ধারণে জটিলতা

ছবি: টাইমস টুডে গ্রাফিক্স

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত বেতন ও চার মাসের বকেয়া অর্থ পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবার বর্ধিত বেতন পাচ্ছেন না। আপাতত তাদের পুরোনো বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন দেওয়া হবে। নতুন কাঠামোর আওতায় বকেয়া অর্থ পরে পরিশোধের সম্ভাবনা রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অনেকের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে সবার জন্য নতুন বেতন কার্যকর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সমস্যা সমাধানে অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে আবেদন করা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন দফতর ও একাধিক মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে গত সোমবার পর্যন্ত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল বেতন, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়ে বিভিন্ন অসংগতি দেখা দিয়েছে। কোথাও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার তুলনায় জুনিয়র কর্মকর্তা বেশি বেতন পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবার কোথাও পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আইবাস++ ব্যবস্থায়ও সমস্যা

গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ৫ অক্টোবর থেকে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। তবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনো এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেননি।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে সরকারের সমন্বিত আর্থিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি আইবাস++-এর কারিগরি ও প্রক্রিয়াগত জটিলতা। ফলে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণের কাজ আটকে রয়েছে।

অর্থ বিভাগের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন তৈরি ও বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় জানাশোনার ঘাটতির কারণে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এগুলো সমাধানে কাজ চলছে এবং অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে অর্থসচিব মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গ্রেডভেদে মূল বেতন নিয়ে প্রশ্ন

কর্মচারীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা এবং ১২তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২৪ হাজার ৩০০ টাকা। অর্থাৎ প্রারম্ভিক মূল বেতনে ১১তম গ্রেড এগিয়ে থাকলেও নতুন নিয়মে বেতন নির্ধারণের পর কিছু ক্ষেত্রে ১২তম গ্রেডের কর্মচারীরা বেশি মূল বেতন পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এতে গ্রেড অনুযায়ী বেতনের স্বাভাবিক ব্যবধান ও ক্রম বজায় থাকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশের আশঙ্কা, বেতন নির্ধারণের নিয়মে অস্পষ্টতা থাকলে জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির ভিত্তিতে বেতন বৈষম্য তৈরি হতে পারে।

পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতা কমার অভিযোগ

নতুন বেতনকাঠামোয় পদোন্নতির পর বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব নিয়েও অসংগতির অভিযোগ করেছেন কর্মচারীরা।

তাদের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, দশম গ্রেডে ৪৯ হাজার ৭০০ টাকা মূল বেতনের বিপরীতে ৫০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা হয় ২৪ হাজার ৮৫০ টাকা। অন্যদিকে, নবম গ্রেডে পদোন্নতির পর মূল বেতন ৫১ হাজার টাকা হলেও ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা দাঁড়ায় ২২ হাজার ৯৫০ টাকা।

এ হিসাবে পদোন্নতির পর মূল বেতন ১ হাজার ৩০০ টাকা বাড়লেও বাড়িভাড়া ভাতা কমে যায় ১ হাজার ৯০০ টাকা। ফলে মূল বেতন ও বাড়িভাড়া ভাতা মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ ৬০০ টাকা কমে যায় বলে তাদের দাবি।

উচ্চতর গ্রেড নিয়েও অসন্তোষ

উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা ও সময় নির্ধারণের নিয়ম নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে। তাদের আশঙ্কা, নিয়মের অস্পষ্টতার কারণে একই পদে কর্মরত জ্যেষ্ঠ ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের বেতন সমান হয়ে যেতে পারে। এমনকি বেতন নির্ধারণের ধাপের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মকর্তা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার চেয়ে বেশি বেতন পেতে পারেন।

কর্মচারীদের দাবি, নতুন বেতনকাঠামোর নিয়ম, গ্রেডের ক্রম, উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যোগ্যতা এবং বাড়িভাড়া ভাতার হিসাব পুনরায় পর্যালোচনা করে অসংগতিগুলো দূর করতে হবে। একই সাথে আইবাস++ ব্যবস্থায় বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া সহজ করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।

কবে মিলবে বর্ধিত বেতন ও বকেয়া?

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতে, নির্ধারিত সময়ে নতুন বেতন কার্যকর করতে হলে দ্রুত এসব জটিলতার সমাধান প্রয়োজন। নিয়মের অস্পষ্টতা দূর করা গেলে বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি পদোন্নতি ও জ্যেষ্ঠতাজনিত বৈষম্য কমানোও সহজ হবে।

তবে নতুন কাঠামো অনুযায়ী যাদের বেতন নির্ধারণ এখনো সম্পন্ন হয়নি, তারা ঠিক কবে থেকে বর্ধিত বেতন এবং চার মাসের বকেয়া অর্থ পাবেন, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।